শিরোনাম
◈ খে‌লোয়াড়‌দের আ‌র্থিক ক্ষ‌তি সামলা‌তে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ালো বিসিবি ◈ নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল ◈ সংসদে অনুপস্থিত এমপি, বাতিল হলো লিখিত প্রশ্ন: স্পিকারের ‘জি এম তো নাই’ মন্তব্যে হাসির রোল ◈ নতুন দায়িত্ব পেলেন এ্যানি ◈ ইংরেজি জানেন, বুঝতেও পারেন—কথা বলতে গেলেই সমস্যা কেন হয়? ◈ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইএসডিবির সঙ্গে চুক্তি সই ◈ জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে গ্যাস, কাল আসছে আরও এক এলএনজি কার্গো ◈ জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি নজরুল ইসলামকে নিয়ে স্পিকার বললেন, ‘জিএম তো নাই’ ◈ বয়স জালিয়াতির কার‌ণে এক সঙ্গে ৫০০ জন কু‌স্তি‌গির বহিষ্কার ◈ ‘যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে রেমিট্যান্সের শীর্ষে ফের সৌদি আরব’

প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৬ রাত
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘শান্তি কমিটিতে থেকে অনেকের জানমাল রক্ষা করেছিলেন বাবা’: আসিফ আকবর

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটিতে থাকার কারণে আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার সে সময়ের ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।

আসিফ জানান, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি  জীবনের শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৭১ সালে তার বাবা শান্তি কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেছিলেন।

আসিফ বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার প্রভাবশালী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে শান্তি কমিটিতে থাকার উসিলায় তিনি অনেকের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছেন।’

এ সময় বাবার একটি ঘটনার কথাও জানান আসিফ। তার দাবি, তার বাবা ফাঁসির হাত থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা আছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক কেমন ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি এভাবে বলা ঠিক হবে না। তার দাবি, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।

আসিফ বলেন, ‘যেহেতু তিনি অনেকের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষ বলা যায় না। মুসলিম লীগের একজন সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।’

ছয় দফা নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা জানান আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর তার বাবা মুসলিম লীগের একজন প্রতিনিধি হিসেবে চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

তবে সেই চিঠি এখন আর পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তার ভাষ্য, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক কাগজপত্র তখন সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে তার বড় ভাইয়েরা এ ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর তার বাবার কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাটিও তুলে ধরেন আসিফ। তিনি জানান, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার জন্য কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

আসিফের দাবি, নতুন অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল। তাই সেই পরামর্শ অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর তার বাবা নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।

এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয় বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফ আরও জানান, ১৯৭৪ সালে তার বাবা আইনি লড়াই করে এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

তিনি বলেন, তার বাবা সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পাননি। বরং আদালতে আইনি লড়াই করে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েই তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। দালাল আইনের অধীনেও কোনো রকম গ্রেফতার বা তার বাবার কোনো সাজা হয়নি বলেও দাবি করেন আসিফ।

১৯৭১ সালে বাবার ভূমিকা নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে এসব কথা বলেন আসিফ আকবর। তার বক্তব্যে বাবার মুসলিম লীগ ও শান্তি কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি যেমন এসেছে, তেমনি তার দাবি অনুযায়ী, ওই সময় অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বাবার ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

সূত্র: জাগোনিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ