মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের অংশ হিসেবে আজ রোববার প্রকাশ করা হয়েছে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। এই তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেলেও, সভাপতি পদপ্রার্থী খোরশেদ আলম খসরু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শামসুল আলম মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যাচাই-বাছাই শেষে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে পরপর ( ২০১৯- ২০২১ এবং ২০১১- ২০১৩) পরপর ২ মেয়াদে কার্যনিবাহী কমিটিতে থাকায় প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন বাতিল করা হলো। ৪০ জন প্রার্থী প্রাথমিক মনোনয়ন পত্র চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, রাতে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সভাপতি পদপ্রার্থী সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, আপীল করা হবে। দেখা যাক কি হয়।
অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে তালিকায় থাকা কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু এর সাথে রাতে যোগাযোগ করে প্রশ্ন করা হয় যোগাযোগ মাধ্যমে শামসুল আলম এর সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন পত্র বাতিল হওয়ায় আপনাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী বলা হচ্ছে আসলে কি। তিনি বলেন, চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হউক। না হলে তো কিছু বলা যাবে না। আপীল হলে কি হয় তারপর মন্তব্য করা যাবে।
অপরদিকে, মনোনয়ন বাতিল হওয়া শামসুল আলম তার এফবিতে পোষ্ট দিয়ে লিখেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন, কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু লোকজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ফলাফল ঘোষণা করে দিয়েছে!!!
ফ্যাক্ট#চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি নির্বাচন।
এদিকে, প্রযোজক সমিতির সদস্য আরশাদ আদনান বলেন, ২০১৯- ২০২১ এবং ২০১১-২০১৩ পরপর ২ মেয়াদ হয় কি করে। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে জানতে চেয়েছেন।
দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন আগামী ৮ আগস্ট বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ২ প্যানেলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বৈধ প্রার্থীরা প্রচারণায় জোর দিচ্ছেন বাতিল হওয়া প্রার্থী ২ জন আপিল বা পুনর্বিবেচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচন ঘিরে এফডিসি এলাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচন এখন মূল প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। তবে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি নির্বাচনী পরিবেশে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে। সামনে আপিল, প্রচারণা ও ভোটের দিনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জমে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।