মনিরুল ইসলাম : দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়ন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা জাসাস নেতৃবৃন্দের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী বাবু নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আলী নামাজ মাহমুদ খৈয়ম এবং মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “জাসাস দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্য সংস্কৃতিকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা।”
প্রতিমন্ত্রী আলী নামাজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, “সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সমাজকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করে। জাসাসের মতো সংগঠনগুলো আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করলে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ধারায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।”
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতিচ্ছবি। এটিকে রক্ষা ও বিকাশে সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।”
জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান বলেন, “জাসাস সবসময় দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা ও শিল্পীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের সহযোগিতায় আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই।”
সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন বলেন, “সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আজকের এই সভা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুল ইসলাম সানি, লিয়াকত আলী, মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী, জাবেদ আহমেদ কিসলু, মীর সানাউল হক, কে এম খালেদুজ্জামান জুয়েল, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, চৌধুরী মাহবুব আলম (শিবা সানু), মো. জামাল উদ্দিন নাসির, মো. ফেরদৌস কবির, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন, মো. জয়নাল উদ্দিন নাসির ও ফারজানা চৌধুরী বেবি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদস্য আশরাফুল মজিদ খোকন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি শরিফুল ইসলাম স্বপনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রসার, শিল্পীদের কল্যাণ, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও সমৃদ্ধ ও বিকশিত হবে।