বনি সেনগুপ্ত টালিউডের একজন চর্চিত অভিনেতা। তিনি ২০১৪ সালে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘বরবাদ’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আলোচিত সিনেমা ‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে’ ও ‘জিও পাগলা’র মতো রোমান্টিক কমেডি সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান।
বনি সেনগুপ্ত মূলত কমার্শিয়াল রোমান্টিক সিনেমায় অভিনয় করলেও ‘জতুগৃহ’ ও ‘শুভ বিজয়া’ সিনেমার মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
২০২১-২০২২ অবধি বিজেপিতে ছিলেন বনি সেনগুপ্ত। এরপর সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ না দিলেও রাজ্যের সাবেক শাসক দলের নানা অনুষ্ঠানে দেখা মিলত তার। বিজেপিতে ফেরার কি কোনো সম্ভাবনা আছে? টালিউডে ‘ব্যান’ হয়ে যাওয়ার কোনো ভয় কি বনি পাচ্ছেন? সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন করা হলে বনি সেনগুপ্ত বলেন, যদি নতুন সরকার আগের সরকারের মতোই ব্যান করে, তাহলে তফাত কী থাকবে! আর যদি করতে চায় করবে, তা নিয়ে ভয় পাচ্ছি না। মানুষ আরও ক্লিয়ার হয়ে যাবে যে, ব্যাপারটা একই থাকল। বদল এলো না।
২০২১ সালের মার্চ মাসে দিলীপ ঘোষের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে বনি সেনগুপ্ত বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি ছাড়েন। এবং তিনি দলের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন।
বনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তার মা, অভিনেত্রী ও প্রযোজক পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছিলেন যে, বনি তাকে না জানিয়েই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি নিজে তৃণমূলেই থাকবেন। এরপর বনি সরাসরি তৃণমূলে যোগ না দিলেও ঘাসফুল দলের একাধিক অনুষ্ঠানে থাকতেন তিনি। এমনকি অংশ হয়েছিলেন ভোট প্রচারেরও।
তবে এরপর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিততেই ফেরার ইঙ্গিত শোনা গেল বনির কথায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইম্পা সভাপতির ছেলের জবাব— আমি তো ২০২১ সালে বিজেপি জয়েন করেছিলাম। অফিসিয়ালি ওদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলাম। এবং ছাড়িও আমি অফিসিয়ালি। একটা বছর ছিলাম তাদের সঙ্গে। আমার সঙ্গে কিন্তু কখনো সম্পর্ক খারাপ করেনি ওরা।
তৃণমূলের মঞ্চে থাকা নিয়ে অভিনেতা বলেন, তখন যে রুলিং পার্টি ছিল, তারা যদি আমাকে বলে— আমরা আপনাকে এই অনুষ্ঠানে চাই, এখানে যেতে হবে, আমি তো না বলতে পারি না। গেছি আমি। এবার এখন যে নতুন সরকার আসবে, তাদের মতাদর্শ যদি আমার সঙ্গে মেলে, নিশ্চয়ই তাদের সঙ্গে থাকব। যে রুলিং পার্টি ছিল, তাদের হয়ে আমি কথা বলতে গেছি, ভোট চাইতে গেছি। কিন্তু মানুষ যদি সেই পার্টিকে না চায়, হেরে যায়, তাহলে কিছু তো করার নেই।
তিনি বলেন, আমি আবারও বলছি— এখন যে পার্টি আসবে তাদের মতাদর্শ যদি আমার সঙ্গে মেলে, তাহলে আমি নিশ্চয়ই তাদের সঙ্গেও যাব।