মহসিন কবির: একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজন চ্যালেন্ঞ্জ মনে করছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোটের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই চিঠি পেয়েছি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নির্বাচন কমিশনের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজন ইসির জন্য চ্যালেন্ঞ্জ হবে বলে কমনওয়েলথ এমনটাই জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। রোববার তিনি একথা জানিয়েছেন।
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে তা নির্বাচনের জেনোসাইড হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন স্থানীয় নির্বাচনের কথা বলছি না, কারণ এটা সম্ভব নয়। আমরা অবাস্তব কোনো দাবিতে বিশ্বাস করি না। তবে নির্বাচনের দিন গণভোট চাই না।
গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চিঠিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
আখতার আহমেদ বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার আমরা এই চিঠিটা পেয়েছি। এতে বলা হয়েছে যে, গণভোটের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একইদিনে করতে হবে। এখনো আইনটি হয়নি। আইনটি হওয়ার পর আমরা বাকি কাজগুলো করতে পারব।'
রাজধানীর গুলশানে এক কর্মশালায় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, 'আগামী সপ্তাহে গণভোটের আইন করা হবে। আইনটা হয়ে গেলে গণভোটের প্রস্তুতি শুরু করবে কমিশন।'
এটি আয়োজন করা চ্যালেঞ্জ হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, 'একইদিনে নির্বাচন ও গণভোট করার মতো এমন মুখোমুখি পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচন কমিশনকে।'
গত বছরের নভেম্বরে দায়িত্ব নেয়ার কয়েকমাস পর থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তখন পর্যন্ত গণভোটের কোনো আলোচনাই আসেনি রাজনীতির মাঠে। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বচনের কর্মপরিকল্পনা তথা- রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয় ইসির পক্ষ থেকে, তখনো সুরাহা হয়নি গণভোট ইস্যুটি।
সব সামলে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতিও নিচ্ছিল নির্বাচন কমিশন- ঠিক তখনই সরকারের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত আসলো একইদিনে গণভোট এবং সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। ফলে বাড়তি আরেক মহাকর্মযজ্ঞ যুক্ত হলো ইসির পরিকল্পনার খাতায় সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে গণভোটের পরিকল্পনা জানতে চাইলে সিইসির উত্তর ছিল- আইন ছাড়া কিভাবে পরিকল্পনা করবে নির্বাচন কমিশন? সবশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে জানানো হয় পরবর্তী ৩ থেকে ৪ কার্যদিবসের মধ্যেই গণভোট আইন প্রণয়ন করবে সরকার।
আইন বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘গণভোট আইন আমরা খুব দ্রুত করতে যাচ্ছি। এ সপ্তাহের মধ্যেই করা হবে। আগামী তিন থেকে চার কার্যদিবসের মধ্যে হয়ে।’