শিরোনাম
◈ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় নতুন কৌশল নিচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু, বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কা ◈ অর্থ সংকট থাকলে সরকার বন্ড দিতে পারে: বিআইপিপিএ ◈ সরবরাহ সংকট কাটেনি, তেল নেই অনেক পাম্পেই ◈ যুদ্ধের ছায়া প্রবাসজীবনে, দেশে উদ্বেগে পরিবার ◈ বেসরকারি ৪ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ ◈ ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে আরও পাঁচ প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ ◈ মিরপুরের পিচের প্রশংসা কর‌লেন পাকিস্তানি কোচ মাইক হেসন  ◈ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পট মার্কেট থেকে দুই লাখ টন ডিজেল কিনছে বিপিসি ◈ ইরানের বর্তমান শাসন পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ আয় করতে পারবে: লিন্ডসে গ্রাহাম

প্রকাশিত : ১০ মার্চ, ২০২৬, ০১:৫২ রাত
আপডেট : ১০ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

অর্থ সংকট থাকলে সরকার বন্ড দিতে পারে: বিআইপিপিএ

মনজুর এ আজিজ : অর্থের সংকট থাকলে সরকার আমাদের বন্ড দিতে পারে। অর্থ অথবা বন্ড কোন একটি ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ )। সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইমরান করিম। তিনি বলেন, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ৮ থেকে ১০ মাসের বকেয়া পড়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো পাওনা রয়েছে। আর ধারদেনা করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো অবস্থানে নেই আমরা।

তিনি বলেন, প্রকৃত উৎপাদনযোগ্য বিদ্যুতের পরিমাণ মাত্র ১৮৬২৬ মেগাওয়াট। সবকিছুর যোগান ঠিকঠাক থাকলে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার সম্ভব। আসছে গরমের মৌসুম সামাল দেওয়া কঠিন হবে। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে। টাকা থাকলেই সবকিছু নাও পাইতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে সবাইকে লাগবে। আমাদের দিক থেকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি। তবে এলডি নিয়ে পিডিবির সঙ্গে বাহাস চলছে। অথচ বিদেশি কোম্পানির জন্য অন্য আইন ফলো করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা দেশীয় উদ্যোক্তারা বাড়তি সুবিধা চাচ্ছি না। অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারিদের জন্য এক আইন আমাদের জন্য ভিন্ন আইন হতে পারে না। ৮ মাস বকেয়া রেখে কি আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ দেবে! আমরা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় হতে হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২৮৪৮৪ মেগাওয়াট বলা হলেও প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। গ্যাস ঘাটতির কারণে ৬৬৯৪ মেগাওয়াট, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৬২৬ মেগাওয়াট, রাতে সৌর বিদ্যুৎ নেই ৭৬৯ মেগাওয়াট এবং ডিজেল থেকে ৭৬৮ মেগাওয়াট কোনদিনেই উৎপাদন করার সুযোগ নেই। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ১৮৬২৬ মেগাওয়াট। এবার গরম বেশি পড়ার সম্ভাবনা। তাই আসছে গরমের মৌসুম খুবই চ্যালেঞ্জিং মনে করা হচ্ছে। আমরা মনে করছি, সবধরণের বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার ছাড়া এই মৌসুম সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

বিআইপিপিএ প্রেসিডেন্ট কেএম রেজাউল হাসানাত বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। এটাতো মারাত্মক সংকট তৈরি করছে। সহসা গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবা উচিৎ।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের একটি কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিগত সময়ে চুক্তি হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ট্যারিফ কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা উচিত! বিআইপিপিএ ওই রিপোর্টকে কি ভাবে দেখছে! এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ যদি অযাচিতভাবে সুবিধা নিয়ে থাকে, তার বিষয়ে অবশ্যই আলোচনা হতে পারে। সেটি যদি আমাদের  কোম্পানি হয় তাতেও আপত্তি নেই। তবে তা হতে হবে যৌক্তিক।

বিআইপিপিএ ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারের সহযোগী হতে চাই। আমাদের কারণে আজকে এই খাতে অনেক দক্ষ লোকবল তৈরি হয়েছে। আগে বিদেশ থেকে প্রকৌশলী আনতে হতো, এখন দেশীয় প্রকৌশলীরাই সমস্যার সমাধান দিচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান করিম বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ৪০ ডলারে উঠেছিল এলএলজির দাম। তখন তেল দিয়েই সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে বাংলাদেশ। কয়েকমাস স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ ছিল। আমাদের পরামর্শে তখন ২০ হাজার কোটি টাকার মতো সাশ্রয় হয়েছে। এখনও যেভাবে এলএনজির দাম বাড়ছে, ফার্নেস অয়েল কিন্তু সেভাবে বাড়ে না। তাই এলএনজি সব সময় সাশ্রয়ী নাও হতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। এসব কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) নের্তৃবৃন্দসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়