শিরোনাম
◈ দুর্গাপূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত শপিংমল-দোকান খোলা রাখা যাবে ◈ ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ◈ ৬ দিন বন্ধ থাকছে একাধিক ব্যাংকের অনলাইন-এটিএম-কার্ডসহ নানা সেবা ◈ বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সিসিটিভিতে দেখানোর দাবিতে আইনি নোটিশ ◈ দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, আগের শনিবার খোলা থাকবে অফিস ◈ খাদ্য নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৩০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি ◈ নির্মাণকাজে সংকুচিত হচ্ছে চুনতি অভয়ারণ্যের হাতির চলার পথ, বাড়ছে ট্রেন সংঘর্ষের ঝুঁকি ◈ এক কূপে মিলল গ্যাস, এবার যমুনার ওপারেও অনুসন্ধানের ভাবনা ◈ আ‌র্জেন্টিনার জা‌র্সিতে বুধবার ভোর ৫টায় মেসির বিদায়ী ম্যাচ  ◈ ভারতের দিল্লিতে নারী বিক্ষোভকারীদের 'হেনস্থা', 'দ্বিতীয় যন্তর মন্তরের' ডাক ককরোচ জনতা পার্টির

প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪৭ বিকাল
আপডেট : ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বর্জ্য থেকে ডিজেলসমৃদ্ধ জ্বালানি তৈরির পথে কুয়েট

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) গবেষকেরা মানববর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে ডিজেলসমৃদ্ধ বায়ো-ক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন। ফলে আমদানিকৃত তরল জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে ১৩ জন গবেষক ২০১৬ সাল থেকে এ গবেষণা পরিচালনা করছেন।

কুয়েটের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে গবেষকেরা মানববর্জ্য ও পয়ঃশোধনাগারের স্লাজ থেকে পেট্রোল ও অকটেন-রেঞ্জের জ্বালানিসমৃদ্ধ বায়ো-ক্রুড উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন। পরীক্ষাগারে পরিচালিত গবেষণায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়ো-ক্রুড উৎপাদনের সাফল্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশের তরল জ্বালানি আমদানিতে ডিজেলের উচ্চ নির্ভরতার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে গবেষকেরা ডিজেলসমৃদ্ধ বায়ো-ক্রুড উৎপাদনের দিকে মনোনিবেশ করেন। 

দেশের মোট তরল জ্বালানি আমদানির প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ডিজেল এবং এতে বছরে আনুমানিক ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।

advertisement

গবেষকেরা বর্জ্যের সঙ্গে ধানের তুষ ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে সফলভাবে এমন বায়ো-ক্রুড উৎপাদন করেছেন, যাতে ৫০ শতাংশের বেশি ডিজেল-রেঞ্জের উপাদান রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জ্বালানি দিয়ে আমদানিকৃত ডিজেলের একটি অংশের চাহিদা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এ গবেষণার ফলে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে ১৫টির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে কিউ-১ মানের জার্নালও রয়েছে।
প্রায় এক বছর আগে সরকারের পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি রিসার্চ কাউন্সিল থেকে এ প্রকল্পে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে গবেষণার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়।

গবেষকেরা হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এ প্রযুক্তিতে আগে থেকে শুকানোর প্রয়োজন ছাড়াই উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে ভেজা জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় বর্জ্যকে বায়ো-ক্রুডে রূপান্তর করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে পরিণত করা সম্ভব।

গবেষকেরা বলছেন, বাণিজ্যিক পর্যায়ে সফলভাবে প্রযুক্তিটি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের মোট ডিজেল চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক তিন টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতাসম্পন্ন একটি বাণিজ্যিক প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রায় ৮০ কোটি থেকে ১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বিনিয়োগ করা হলে এক বছরের মধ্যেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব বলেও তারা জানান।

অধ্যাপক খালেকুজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সফল ফলাফল অর্জন করেছে এবং উৎপাদিত বায়ো-ক্রুডের ৫০ শতাংশের বেশি ডিজেলসমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে।

প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যে বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং কিউ-১ মানের জার্নালে ১৫টির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এটি আমাদের আমদানিনির্ভর জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণের সম্ভাবনা রাখে, বলেন তিনি। 

অধ্যাপক খালেকুজ্জামান জানান, দেশের মানববর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য ও ভেজা জৈব বর্জ্যরে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ এ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বিকল্প তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এতে বছরে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

তবে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিকল্প তৈরির লক্ষ্যে পৌঁছাতে ধারাবাহিক গবেষণা, পর্যাপ্ত কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ প্রয়োজন হবে বলেও জানান তিনি। 

গবেষকেরা জানান, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনও উৎপাদন করা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, বাংলাদেশে অনেক সম্ভাবনাময় গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার অভাবে নিয়মিত উৎপাদন পর্যায়ে যেতে না পেরে গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। সরকার এ প্রযুক্তিকে উৎপাদন পর্যায়ে নিতে আর্থিক সহায়তা দিলে তা দেশের জন্য উপকারী হবে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকারি সহায়তায় প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে প্রযুক্তিটি বাস্তবায়ন করা গেলে, এ গবেষণার সাফল্য দেশের জন্য উপকার বয়ে আনতে পারে।

  • সর্বশেষ