শিরোনাম
◈ আম্বানির চিড়িয়াখানা ভানতারায় গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া দুই লেমুর আছে কি না নিশ্চিত নয় সিআইডি! ◈ শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশি আলু-পেঁয়াজ, রপ্তানি সম্ভাবনা যাচাইয়ে যাবে প্রতিনিধি দল ◈ কাপ্তাই লেকের পানি উচ্চতা বাড়ায় আবারও খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট ◈ দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা ◈ এআই বিনিয়োগে বাড়ছে ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও চাঙা বৈশ্বিক বাণিজ্য ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের নতুন নিয়ম, চাকরি হারালে ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব! ◈ আমেরিকানদের ৫০০০ ডলার করে দেওয়ার ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি কি আতঙ্কের লক্ষণ? ◈ রাতারাতি ধনী হওয়ার লোভে একের পর এক ঝরছে প্রাণ ◈ বড় ব‌্যবধা‌নে সাবাহকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেডের ◈ শক্তিশালী দল নিয়ে কলকাতায় আসছে ব্রা‌জিল, স্কোয়াড ঘোষণা

প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ দুপুর
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জ্বালানি সংকটে ফের কয়লার পথে সরকার, ১০ বছরে ৫৬৫ মিলিয়ন টন উত্তোলনের লক্ষ্য

জ্বালানি সংকট, আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ফের কয়লার ওপর ভরসা বাড়াচ্ছে সরকার। গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি, এলএনজি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং জ্বালানি তেলের তুলনামূলক বেশি উৎপাদন ব্যয়ের কারণে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশীয় কয়লাকে কাজে লাগানোর নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আমদানি করা কয়লার ব্যবহার বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখার উদ্যোগও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনায় আগামী ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন কয়লাক্ষেত্র থেকে ৫৬৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সূত্র: দৈনিক আমাদের সময় প্রতিবেদন 

এর মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সম্প্রসারণ করে ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৬ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে; প্রয়োজনে নতুন রেল সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে কয়লা আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামোগত সুবিধা থাকায় মাতারবাড়ীতে আরও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চিন্তাও করছে সরকার।

দেশের মাটির নিচে বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, খালাশপীর, জামালগঞ্জ ও দীঘিপাড়াসহ পাঁচটি প্রধান কয়লাক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন টন কয়লার মজুদ বা সম্পদের কথা বিভিন্ন সরকারি নথি ও গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে এর পুরোটা অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে উত্তোলনযোগ্য নয়। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া ছাড়া অন্য কোনো কয়লাক্ষেত্র থেকে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হয়নি। ফলে বিপুল দেশীয় কয়লা মাটির নিচে পড়ে থাকলেও বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে আমদানি করা কয়লার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট, পরিবহন ব্যয় কিংবা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিলে সেই নির্ভরতা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে বড়পুকুরিয়া থেকেই প্রায় ১৬ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে কয়লানীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কয়লার মজুদ থাকলেই হবে না; অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মজুদ, উত্তোলন প্রযুক্তি, পরিবেশগত প্রভাব, পানি ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন এবং উত্তোলিত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার অবকাঠামো— সবকিছুর সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশে ৮টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা এখন প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায়ই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো না কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকছে। এ ছাড়া কয়লা সংকটে সক্ষমতা অনুযায়ী সব সময় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালানো যাচ্ছে না। বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। ফলে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উত্তোলিত কয়লা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কোল ইয়ার্ডে কয়লার মজুদ হয়ে পাহাড় জমে থাকছে। দেশীয় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ছাড়াও ভারতের ঝাড়খণ্ডে নির্মিত আদানির কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়।

বর্তমানে দেশে বাণিজ্যিকভাবে চালু বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের বেশি। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে আরপিসিএল নরিনকো কোম্পানির আরও একটি ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে।

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা প্রায় ৫২৫ মেগাওয়াট, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এবং মাতারবাড়ী কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। আরও রয়েছে আরপিসিএলের ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অংশ এখন আর ছোট নয়। বরং গ্যাসের সংকট, এলএনজি আমদানির অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে তুলনামূলক স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উৎপাদন খরচে কয়লার সুবিধা

বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের সবচেয়ে বড় অংশের একটি হলো জ্বালানি ব্যয়। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের ক্ষেত্রে দেশি গ্যাসের মূল্য তুলনামূলক কম হলেও গ্যাসের সরবরাহ সংকট বড় সমস্যা। এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করতে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। একইভাবে ফার্নেস অয়েল বা ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয় আরও বেশি।

কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জ্বালানি ব্যয় কেন্দ্রভেদে ভিন্ন। কয়লার আন্তর্জাতিক মূল্য, কয়লার মান, পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয়, ডলার বিনিময় হার এবং কেন্দ্রের দক্ষতার ওপর এ ব্যয় নির্ভর করে। সামগ্রিকভাবে আমদানি করা কয়লা দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎও অনেক ক্ষেত্রে তেলভিত্তিক উৎপাদনের চেয়ে কম ব্যয়বহুল। আর দেশি কয়লা ব্যবহার করা গেলে আমদানি, জাহাজভাড়া ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কয়লার দাম কম হলেই পুরো বিদ্যুতের দাম কম হবে না। কেন্দ্র নির্মাণের মূলধনী ব্যয়, ঋণের সুদ, সক্ষমতা বা ক্যাপাসিটি চার্জ, কয়লা পরিবহন, বন্দরের খরচ এবং পরিচালন ব্যয়ও বিদ্যুতের মোট ব্যয়ে যুক্ত হয়। ফলে কেন্দ্রভেদে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়ের যথাযথ তুলনা করা প্রয়োজন।

বিপুল কয়লা, কিন্তু উত্তোলন নেই

বাংলাদেশের বিভিন্ন কয়লাক্ষেত্র নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত গবেষণা ও সরকারি নথিতে কয়েক বিলিয়ন টন কয়লার মজুদ বা সম্পদের কথা বলা হয়েছে। বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, খালাশপীর, জামালগঞ্জ ও দীঘিপাড়া— এই পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র দেশের প্রধান কয়লাক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হিসাবের ক্ষেত্রে ‘মজুদ’ এবং ‘সম্পদ’ এক বিষয় নয়। ভূগর্ভে থাকা মোট কয়লার পরিমাণ এবং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ আলাদা। ফলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ৮ বিলিয়ন টন কয়লার কথা বলা হলেও পুরো পরিমাণকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য মজুদ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

বাস্তবতা হলো, বড়পুকুরিয়া ছাড়া দেশের অন্য কয়লাক্ষেত্রগুলো থেকে এখনও বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কোনো কারণে কয়লার দাম বাড়লে ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তৈরি হলে কিংবা আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা সংগ্রহ কঠিন হয়ে যেতে পারে।

দেশীয় কয়লা ব্যবহার বাড়াতে হলে শুধু খনি সম্প্রসারণ করলেই হবে না, খনি থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা পরিবহনের জন্য স্থায়ী অবকাঠামোও তৈরি করতে হবে। এ কারণে বড়পুকুরিয়া থেকে উত্তোলিত কয়লা দেশের অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কীভাবে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও ভাবছে সরকার।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে জানিয়েছেন, বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা উত্তোলন করে দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করার লক্ষ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চল থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কয়লা পরিবহনের একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া দেশীয় খনিতে মজুদ থাকা কয়লা ব্যবহারের বিষয়েও সরকার ভাবছে বলে তিনি বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলপথে বিপুল পরিমাণ কয়লা পরিবহন করা গেলে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবহন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কয়লা পরিবহনের জন্য বিশেষ ওয়াগন, লোডিং-আনলোডিং ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বিত লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

দেশীয় কয়লা ব্যবহারের পরিকল্পনার পাশাপাশি আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চিন্তাও রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মাতারবাড়ী এলাকায় আরও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আগ্রহের কথা বলা হয়েছে।

মাতারবাড়ীর বিশেষ সুবিধা হলো— এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা হ্যান্ডলিং অবকাঠামো রয়েছে। ফলে বড় জাহাজে করে আমদানি করা কয়লা এনে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা তুলনামূলক সহজ।

এদিকে জ্বালানি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য মূল প্রশ্ন এখন শুধু ‘কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে কিনা’— তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, কোন কয়লা, কী দামে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হবে। আমদানি করা কয়লা দিয়ে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের মাটির নিচে থাকা কয়লা অব্যবহৃত থাকছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় কয়লা অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হলে তার ব্যবহার নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

সরকারের ১০ বছরের পরিকল্পনায় বড়পুকুরিয়া সম্প্রসারণ, অন্যান্য সম্ভাব্য কয়লাক্ষেত্র থেকে উত্তোলন, কয়লানীতি বাস্তবায়ন এবং উত্তোলিত কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা বাস্তবায়ন হলে আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি পরিবেশ, কৃষি, পানি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় যতটা সম্ভব সাশ্রয়ী পরিকল্পনায় থাকা জরুরি।

কারণ দেশীয় কয়লা থাকলে তা ব্যবহার করে সস্তা বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব— কিন্তু সেই কয়লা উত্তোলন, পরিবহন ও ব্যবহার যদি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই না হয়, তা হলে শুধু মাটির নিচে থাকা বিপুল কয়লার হিসাব দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। এ অবস্থায় সামনে দুটি সমান্তরাল চ্যালেঞ্জ— একদিকে আমদানিনির্ভর কয়লা ও এলএনজির ঝুঁকি কমানো, অন্যদিকে দেশি জ্বালানি সম্পদের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত করা।

আগামী দশকের কয়লানীতি ও বড়পুকুরিয়া সম্প্রসারণের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে এই দুই চ্যালেঞ্জের মধ্যে সরকার কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করে তার ওপর। দেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট।

  • সর্বশেষ