শিরোনাম
◈ চার বছর পর আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ◈ করমুক্ত আয় বাড়ানো, কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল ও স্টার্টআপে ৫০০ কোটি টাকা: বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ জনবান্ধব প্রস্তা ◈ কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের আওতার বাইরে রেখে সংসদে অর্থ বিল পাস ◈ সদ্য চালু হওয়া ভারতীয় ভ্রমণ ভিসার ‘স্লট’ নিয়ে রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ (ভিডিও) ◈ অর্থবিল পাস, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির অঙ্গীকার অর্থমন্ত্রীর ◈ একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ১২৪ ◈ করদাতাদের স্বস্তি দিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭১৬ ◈ এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ◈ আমাদের লক্ষ্য মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৬, ০৭:০৬ বিকাল
আপডেট : ২৯ জুন, ২০২৬, ০৮:৪৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমরা চাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিটি ধাপ নতুন কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হোক : অর্থমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল হতে সরকার শুন্য হাতে ফিরেছে মর্মে বক্তব্য এসেছে। আমি এ প্রসঙ্গে বলতে চাই, সরকার আইএমএফ হতে শুন্য হাতে ফেরেনি। বরং ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গৃহীত প্রোগ্রামের কিছু কিছু শর্ত দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় আমরা উক্ত প্রোগ্রাম থেকে নিজেরাই বেরিয়ে এসেছি। আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে আইএমএফ এর সাথে আলোচনাক্রমে নতুন প্রোগ্রাম গ্রহণ করবো।  

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সমাপনী বক্তব্য দেয়ার সময় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করে এসেছেন। আমি মনে করি তার এ সফর দেশে বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ম্যানুফেকচারিং দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদার রাখবে। এ ধরণের পার্টনারশীপ সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।  আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি সংস্কার হচ্ছে বিনিয়ন্ত্রণকরণ। এই নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং রাষ্ট্রকে অনুমোদননির্ভর কাঠামো থেকে সেবানির্ভর কাঠামোয় রূপান্তর করা। আমাদের লক্ষ্য হলো- রাষ্ট্র যেন বিনিয়োগের প্রতিবন্ধক নয়, বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। সে কারণে আমরা শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির সম্প্রসারনে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। প্রতিটি সেবা প্রদানের সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করতে না হয়। দায়িত্ব নেয়ার পর আমরা উপলব্ধি করি যে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মানসম্পন্ন বিদ্যুত সরবরাহের অনিশ্চয়তা আমাদের শিল্প উৎপাদনসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। এ অবস্থা হতে উত্তরণে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি যার অন্যতম হলো  জ্বালানীর উৎসসমূহকে বহুমুখীকরণ, এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি, বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণ, দেশীয় গ্যাস উত্তোলন জোরদারে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহবান, তেল পরিশোধনে সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস হতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এই উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই, আমরা জনগণকে একটু ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। 

মন্ত্রী আরও বলেন,একটি অধিক উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা চাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিটি ধাপ নতুন কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হোক।

শিল্প, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতে যে সকল কর্মপরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে- আমরা মনে করি তাতে কর্মসংস্থানের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হবে।

আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণদের প্রধান শক্তি হবে তাদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা; এবং যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রবৃদ্ধির স্বাভাবিক ফলাফল হিসেবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়