শিরোনাম
◈ সায়দাবাদে এসি বাসের জন্য আলাদা টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত ◈ খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রি অব্যাহত রাখতে নির্দেশ সরকারের ◈ আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), দেশজুড়ে নানা আয়োজন ◈ মিয়ানমারে সহিংসতা-নির্যাতনে বিপর্যস্ত মানুষ, রোহিঙ্গাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ: জাতিসংঘ ◈ ‘উপহার’ হিসেবে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ◈ রংপুরে চার হত্যা: ‘ধর্ষণের আলামত’ নিয়ে ডোম-চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্নতা ◈ বিড়ালের আঁচড়ের পর শিশুর ‘মিউ মিউ’ শব্দ, জানুন আসল ঘটনা ◈ মহানবীর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি ◈ জামায়াতের মতাদর্শের বিষয়ে সতর্ক করলেন কওমি আলেমরা ◈ বিদিশা এরশাদ গ্রেপ্তার: প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, গুলশান থেকে আটক

প্রকাশিত : ২৭ জুন, ২০২৬, ০৩:১৯ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের পাশে বিশ্বব্যাংক, সহায়তা ১১০ কোটি ডলার

বৈশ্বিক বাজারে সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন (১১০ কোটি) মার্কিন ডলারের দুটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। 

শনিবার (২৭ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আয় সংকুচিত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক তাৎক্ষণিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো ধান উৎপাদনের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা করতে এবং জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩০০ মিলিয়ন ডলার
‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’ বা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) ডলারের সাময়িক অর্থায়ন করা হবে। এ অর্থ দিয়ে অক্টোবর ২০২৬ থেকে এপ্রিল ২০২৭ মেয়াদে আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সার আমদানি করতে পারবে। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় সারের ৮৫ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে থাকে। এ প্রকল্পের অধীনে ৬ লাখ মেট্রিক টন জরুরি সার আমদানি করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষাবাদ করা ১৪ লাখ হেক্টর ধান উৎপাদন জমি উপকৃত হবে। 

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার এবং বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট সুলেইমান কুলিবালি বলেন, ‌‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মূলত আমন ও বোরো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ। এছাড়া, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতের সঙ্গে জড়িত। ফলে সারের সরবরাহে যে কোনো ধরনের বিঘ্ন শুধু খাদ্য নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং দারিদ্র্য বাড়াবে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত করবে।’

সংকট মোকাবিলায় ৭১৩ মিলিয়ন ডলার
‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’ বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রকল্পের আওতায় ৭১৩ মিলিয়ন (৭১.৩ কোটি) ডলার দ্রুত বিতরণ করা হবে। এ অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোকে নগদ অর্থ সহায়তা ও জীবিকা নির্বাহের অনুদান দেওয়া হবে, যা সংকটের সময়ে তাদের আয় স্থিতিশীল রাখতে এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি ও পানির মতো জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে এটি অর্থায়ন করবে। এই প্রকল্পের অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার এবং বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট লেসলি জিন ইউ কর্ডেরো বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের ‘ক্রাইসিস প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স টুলকিট’-এর মাধ্যমে এই প্রকল্পটি বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে তহবিল ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যেখানে, সেখানে সম্পদ বণ্টন করা হবে। এর ফলে যে কোনো ধাক্কা বা সংকট থেকে মানুষ, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

 

  • সর্বশেষ