শিরোনাম
◈ পাকিস্তানে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ নবজাতকের মৃত্যু ◈ বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ বন্ধে ভারতকে জাতিসংঘের কড়া সতর্কবার্তা ◈ তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে দিল্লি কী ভাবছে? ◈ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশি কৃষকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, রাইফেল ফেলে পালালো বিএসএফ সদস্য ◈ ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে ভুটানের রাজা, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি ◈ গ্যাস সংকট মোকাবিলায় রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত, উদ্যোক্তারা আনতে পারবেন ভোলার গ্যাস ◈ বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে দ্বিতীয় টে‌স্টে ইচ্ছে করেই এমন পিচ বানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া : সু‌নীল গাভাস্কার ◈ চেন্নাই সুপার কিং‌সের ২৫ শতাংশ মালিকানা চেয়ে বসলেন ধোনি: না বলে দিলো সিএসকে, সম্পর্ক তলানিতে   ◈ সায়দাবাদে এসি বাসের জন্য আলাদা টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত ◈ খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রি অব্যাহত রাখতে নির্দেশ সরকারের

প্রকাশিত : ০৩ জুন, ২০২৬, ০৫:৪৮ বিকাল
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অর্থনৈতিক সংস্কারে আইএমএফের কাছে নতুন সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আবেদন করেছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচি বিবেচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্কার পরিকল্পনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করছেন।

ইভো ক্রজনার বলেন, ‘‘২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় চলমান কর্মসূচিগুলো একটি কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফলে নতুন বাস্তবতার আলোকে আরও গভীর ও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’’

আইএমএফের বিবৃতিতে ‘‘ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং নিম্ন রাজস্ব আহরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’’

সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘‘নতুন কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের আবেদন আইএমএফ ও সরকারের মধ্যে এমন একটি নতুন কাঠামো তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করবে এবং সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করবে।’’

‘‘তবে সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির অনুমোদন দেশের বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন, শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতি, বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার পরিকল্পনা এবং আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে’’, বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মূল্যায়নের জন্য শিগগিরই একটি আইএমএফ স্টাফ মিশন ঢাকা সফর করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ওই সফরের পর সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচির আকার, অর্থায়নের পরিমাণ এবং সংস্কারসংক্রান্ত শর্তাবলি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

বিবৃতিতে আইএমএফ বাংলাদেশের প্রতি তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, ‘‘টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তারা বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাবে।’’

অন্যদিকে, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের শীর্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোংয়ের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিভিন্ন শিল্প খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মিতসুইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, বৃহৎ ভোক্তা বাজার এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে সম্ভাবনার প্রশংসা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আইএমএফের নতুন সহায়তা কর্মসূচির উদ্যোগ এবং অন্যদিকে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

  • সর্বশেষ