শিরোনাম
◈ ‘ভারত যা চাইবে তাই পাবে’: মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ◈ কারখানা প্রস্তুত, নেই গ্যাস: ঋণের চাপে দিশেহারা শিল্প উদ্যোক্তারা, থমকে গেছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ◈ পুঁজিবাজারে নতুন বড় কোম্পানি: বিআরবি ক্যাবলের আইপিওর প্রস্তুতি শুরু ◈ বাংলাদেশে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ছয়টি মামলা কী অবস্থায় আছে?  ◈ কোরবানির পরবর্তী সাতদিন ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে ◈ ট্রাম্পের 'পাগলামি' ও বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকার একাকীত্ব  ◈ কুয়েতে ২৪০ টন খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ◈ চিনিযুক্ত পণ্যে কর কমানোর ভাবনা, স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্স রিফান্ড চালুর পরিকল্পনা এনবিআরের ◈ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে নিহত ১৫ ◈ ঈদে জাতীয় ঈদগাহে থাকছেন তারেক রহমান, নিজ নিজ এলাকায় নামাজ পড়বেন মন্ত্রীরা

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ০৯:২৩ সকাল
আপডেট : ২৫ মে, ২০২৬, ০১:১৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিনিযুক্ত পণ্যে কর কমানোর ভাবনা, স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্স রিফান্ড চালুর পরিকল্পনা এনবিআরের

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে বাড়তি চিনিযুক্ত খাদ্য ও পানীয় পণ্যের টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর ৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ২.৫ শতাংশ করা হতে পারে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এ খাতে যে হারে মুনাফা হয়, তার তুলনায় ন্যূনতম কর বেশি হওয়ার দাবি করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। সেজন্য করহারকে যৌক্তিক করতে কর কমানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। 

পানীয় ও চিনিযুক্ত পণ্য প্রস্তুতকারকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বলছেন, এই করহার আরও কমানো উচিত।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চিনিযুক্ত পণ্যের ওপর যেকোনো ধরনের কর কমানোর বিরোধিতা করছেন। তারা বলছেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং এসব পণ্যের ভোগ নিরুৎসাহিত করতে উচ্চহারে কর আরোপ করা প্রয়োজন। 

সরকার ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে এসব পণ্যের ওপর ন্যূনতম টার্নওভার কর বাড়াতে শুরু করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে করহার বাড়িয়ে ৫ শতাংশ নিরধান করলেও শিল্প খাতের উদ্বেগের মুখে পরে তা কমিয়ে ৩.৫ শতাংশ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে তা আরও কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়।

টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর মানে হলো কোম্পানির যে পরিমাণ মুনাফাই হোক, কিংবা লোকসান হলেও, তাদের বিক্রির ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হয়। এর ফলে যাদের মুনাফা কম হয়, তাদের ওপর করের প্রকৃত বোঝা বেড়ে যায়।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির কর্পোরেট করহার ২৭.৫ শতাংশ। তবে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পানীয় খাতের উদ্যোক্তারা বলেছেন, ন্যূনতম করের কারণে সার্বিক করের বোঝা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪৩ থেকে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত। 

কোকা-কোলা সিসিআই বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ খান বলেন, 'উচ্চ করহার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা, ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি এটি ইতিমধ্যে আমাদের বিনিয়োগ স্থগিত করতেও বাধ্য করেছে।'

শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কার্বনেটেড কোমল পানীয়ের বাজারের আকার ছিল ৬ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২০১ কোটি টাকায়।

এপ্রিলে এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট সভায় স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুমানা হক চিনিযুক্ত নতুন নতুন খাদ্য পণ্য, যা করের আওতায় নেই, ওইসব পণ্যকে করের আওতায় আনা এবং এসব পণ্যের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। 

তিনি তামাকজাত পণ্যের ওপর বিদ্যমান সারচার্জের মতো সব ধরনের চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপের প্রস্তাবও দেন।

শনিবার রুমানা হক টিবিএসকে বলেন, 'জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে চিনিযুক্ত পণ্যের কর কমানো উচিত হবে না। বরং এখন যেসব চিনিযুক্ত পণ্য করের আওতার বাইরে রয়েছে, ওইসব আইটেমকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এতে সরকারেরও রাজস্ব বাড়বে।' 

এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, মাত্রাতিরিক্ত চিনিতুকয পণ্যের ভোগ বেড়ে যাওয়ায় দেশে তরুণদের মধ্যেও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতা বাড়ছে। 

'সরকারের কেবল ট্যাক্স নয়, জনস্বাস্থ্যও বিবেচনায় নিতে হবে,' বলেন তিনি।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত 'আন্ডারওয়েট, ওভারওয়েট অর অবিসিটি, ডায়াবেটিস, অ্যান্ড হাইপারটেনশন ইন বাংলাদেশ, ২০০৪ টু ২০১৮' শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ বছরের ব্যবধানে নারীদের মধ্যে স্থূলতা প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে, আর পুরুষদের ক্ষেত্রে তা বেড়েছে ১.৫ গুণ। এছাড়া নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই ডায়াবেটিসের প্রকোপ ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড চালুর পরিকল্পনা এনবিআরের

এনবিআর আগামী বাজেটে বেশিরভাগ করদাতার জন্য স্বয়ংক্রিয় কর ফেরত রিফান্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও করছে বলে জানান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অধীনে, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কোনো করদাতা যদি রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য হন, তবে কোনো আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সেই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, কিছু ব্যতিক্রম বাদে কোম্পানি ও ব্যক্তিগত করদাতারা এই ব্যবস্থার আওতায় আসবেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, 'কোনো করদাতার যদি রিফান্ড প্রাপ্য হয়, তবে এনবিআর তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সেই অর্থ তার অ্যাকাউন্টে জমা করে দেবে।'

তিনি জানান, ভবিষ্যতে ব্যবস্থাটি পুরোদমে চালু হয়ে গেলে রিফান্ড প্রক্রিয়ার সময় আরও কমিয়ে আনা যেতে পারে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, করদাতাদের আর রিফান্ডের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে না; কারণ এনবিআর নিজেই যোগ্যতা যাচাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ স্থানান্তর করবে।

ওই কর্মকর্তার তথ্যমতে, সরকার এখন বছরে প্রায় ১.৫০ লাখ কোটি টাকা আয়কর আদায় করে। অন্যদিকে প্রতি বছর মোট রিফান্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২-৩ হাজার কোটি টাকা।

দেশের করদাতারা দীর্ঘদিন ধরে কর রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব ও জটিলতার বিষয়ে অভিযোগ করে আসছেন।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়