যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার দ্রুত কমানোর সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রেখেছেন।
বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৬ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৯৪ দশমিক ৫৯ ডলারে। অন্যদিকে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৪০ ডলারে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনভো বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ফেডারেল রিজার্ভ আরও দীর্ঘ সময় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে, যদিও নীতিগতভাবে শিথিলতার প্রবণতা থাকবে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম সম্ভবত সীমিত পরিসরে ওঠানামা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য স্বর্ণের বাজারকে প্রভাবিত করবে। যদি প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যায়, তাহলে তা স্বর্ণের জন্য সহায়ক হবে।’
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কা এ পতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। যদিও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ ধরা হয়, তবুও উচ্চ সুদের হার সাধারণত সুদবিহীন এই সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া রুপার দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮৬ দশমিক ৬১ ডলারে নেমে আসে। আর প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১২৩ দশমিক ৮০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮৯ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে আসে।
এদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স