শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০২ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

যুদ্ধের প্রভাবে ৯৭২ ফ্লাইট বাতিল, চাপের মুখে এয়ারলাইন্সগুলো

মনজুর এ আজিজ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা অস্থিরতার কারণে টানা ৩৮ দিনে প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এয়ারলাইন্সগুলো, আর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাত। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৯৭২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী রুটগুলোতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রয়েছে। 

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ৩৩৯টি, ১০ থেকে ১৯ মার্চ ২৭৫টি, ২০ থেকে ২৯ মার্চ ২২৬টি এবং ৩০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে এয়ারলাইন্সগুলো। ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ থাকলেও তাদের পার্কিং চার্জ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হওয়ায় জ্বালানি খরচও বেড়েছে। এ প্রভাব পড়েছে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আয়ের ওপরও। আকাশপথ ব্যবহার কমে যাওয়ায় ওভারফ্লাইং চার্জ, ল্যান্ডিং ফি এবং অন্যান্য সেবা থেকে আয় কমে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সংস্থাটির মাসিক আয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এতে যাত্রীসেবা ফি, নিরাপত্তা ফি এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে আয়ও কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। এক মাসের বেশি সময় ধরে ফ্লাইট স্বাভাবিক না থাকায় টিকিট বিক্রি, ভিসা প্রসেসিংসহ প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিান কর্মচারীদের বেতন ও অফিস ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছে। 

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ট্রাভেল ব্যবসা মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। এই রুট বন্ধ থাকায় এজেন্সিগুলো কার্যত অলস সময় পার করছে। পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে ছোট প্রতিানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, আর বড়গুলো কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে যেতে পারে। এদিকে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে টিকিটের দামও বেড়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই বিকল্প যাতায়াত মাধ্যম বেছে নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে পুরো এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। এয়ারলাইন্স, ট্রাভেল এজেন্সি, কার্গো পরিবহন সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কিছু প্রতিষ্ঠান অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

  • সর্বশেষ