শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২২, ০৭:৩৭ বিকাল
আপডেট : ০৯ আগস্ট, ২০২২, ১১:৩৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি ৫৬ শতাংশ, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে দেশের মুদ্রাবাজার 

মনজুর এ আজিজ: বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি নিয়ে নানা টানা-পোড়েনের মধ্যেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের পর আগস্ট মাসেও রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিটেন্স প্রবাহে হাওয়া লেগেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিটেন্সের বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সূত্র জানায়, আগস্ট মাসের শুরুতেই ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এতে দেশের মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

এতে প্রতিদিন দেশে আসছে ৮৬৯ কোটি টাকা। যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ৫৬ শতাংশ বেশি। বর্তমান বিনিময় হার (সরকারি-প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা) হিসাবে টাকার অঙ্কে ৪ দিনের এই রেমিটেন্সের পরিমাণ ৩ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা দরেও রেমিটেন্স সংগ্রহ করছে। আর খোলাবাজারে সোমবার প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকারও বেশি দামে। 

এদিকে গত বছরের জুলাই মাসের ৪ দিনে (১ থেকে ৪ জুলাই) ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত (১ মাস ৪ দিনে) ২৪৬ কোটি ৪০ লাখ (২.৪৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স দেশে এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ২১০ কোটি ৭০ লাখ (২.১০ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ১২ শতাংশ। প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা হিসাবে টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২১০ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার করে পাঠিয়েছেন তারা; টাকার হিসাবে প্রতিদিন দেশে এসেছে ৬৪০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে ডলারের দর বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ দুই শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই বাড়ছে রেমিটেন্স।

তিনি বলেন, এই সময়ে রেমিটেন্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিটেন্স বৃদ্ধির কারণে এখন মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে মনে করেন তিনি। 

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, গত অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ লোক কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে রেমিটেন্স পাঠাতে শুরু করেছেন। সে কারণেই ঈদের পরও রেমিটেন্স বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা পুরো অর্থবছর জুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়