মহসিন কবির: জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কবে শুক্রবার। ইতোমধ্যে কয়েকটি দল জানিয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস না পেলে স্বাক্ষর করবে না। আর দলগুলো স্বাক্ষর না করলে ভবিষ্যতে বিভেদ সৃষ্টি হবে, সেটা নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য ভালো হবে না বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার বিষয় নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। আইনিভিত্তি ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করা 'মূল্যহীন হবে' বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন দলটির নেতারা। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবেনা বাম গণতান্ত্রিক জোট তারও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে।
আইনি ভিত্তি ছাড়া জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বিষয়টি শুধু আনুষ্ঠানিকতা বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আইনি ভিত্তি ছাড়া এবং আদেশের ব্যাপারে নিশ্চয়তা ছাড়া জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলে সেটা মূল্যহীন হবে। এ কারণে আগামীকাল শুক্রবারের জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের অংশীদার হবে না এনসিপি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ কথাগুলো বলেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সর্বশেষ জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের সময়ও আইনি ভিত্তির কথা বলা হয়েছিল। শুধু কয়েকটি রাজনৈতিক দল এক জায়গায় বসে একটা দীর্ঘ আলোচনায় কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোই যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চয়তা দিতে হবে, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় গেলে সেগুলো বাস্তবায়ন করবে।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যে প্রক্রিয়া, যে আলোচনা হবে, সেটির একটি আইনি ভিত্তি দিতে হবে।
আগামীকাল জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামীকাল যে অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে, সেখানে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের ঘটনা ঘটবে। জুলাই সনদে আইনিভাবে যে আদেশ জারি করার কথা বলা হচ্ছে, সেটি না করে স্বাক্ষরের বিষয়টি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হবে। জুলাই সনদ এর মধ্যে হয়ে গেছে। সব রাজনৈতিক দল একটা জায়গায় ঐকমত্যে এসেছে, কী কী পরিবর্তন হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সেখানে কিছু কিছু দলের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে। তাদের ভিন্নমত থাকতেই পারে। গণভোটে সামগ্রিক বিষয়টিই যাবে। জনগণ যদি পক্ষে ভোট দেন, তাহলে জুলাই সনদ অনুমোদিত হবে এবং পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় যাবে, তারা সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার মূল জায়গাটা হবে আদেশ, যে সাংবিধানিক আদেশের ভিত্তিতে গণভোট হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া এগোবে।
এদিকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবেনা বাম গণতান্ত্রিক জোট। বৃহস্পতিবার বাম গণতান্ত্রিক জোটের এই সিদ্ধান্ত রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবিধানে বিদ্যমান চার মূলনীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ, এবং ১৫০(২) অনুচ্ছেদের ক্রান্তিকালীন বিধানের তফসিল পরিবর্তনে সম্মতি প্রদান ও আদালতে প্রশ্ন করা যাবে না এমন বিষয়ে অঙ্গীকার করতে হবে বলে তারা এই সনদে স্বাক্ষর করবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন জোটের অন্যতম শরিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ। সিপিবি, বাসদ, বাসদ মার্কসবাদী, এবং বাংলাদেশ জাসদ এই চারটি দলের সমন্বয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠিত হয়েছে।
তবে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার কথা জানিয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্বাক্ষর করবে কি না, এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। অন্যদিকে বাম ঘরানার পাঁচটি দল সনদে স্বাক্ষর না করার কথা জানিয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে হঠাৎ করেই জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে অতি জরুরি সভা আহ্বান করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। স্বল্প সময়ের নোটিশে সভা আহ্বান করায় স্বাক্ষর আয়োজন নিয়ে এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এ দিন সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভোটের সময় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলোর পক্ষ থেকে নিজ নিজ দলীয় অবস্থান তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা উৎসবমুখরভাবে সেখানে যাব; এ দলিলে সই করব এবং উৎসব করব। সবাই, সারা জাতি এতে শরিক হবে। আপনারা তাদের সামনের সারির মানুষ, যাঁরা প্রকৃত সই করছেন। সারা দেশের মানুষ চিন্তার মধ্যে, তাদের ভাবনার মধ্যে আপনাদের সঙ্গে সই করবে। জাতির জন্য এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি; জাতীয় সনদের কপি শুধু অনুষ্ঠানে নয়, পরবর্তীকালেও যেন প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এ বিষয়ে সরকারকেও অনুরোধ জানানো হবে, যেন এটি সবার কাছে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। নাগরিকরা যেন বুঝতে পারেন, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কি ঐকমত্যে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা কী এবং অগ্রগতি কতদূর হয়েছে, সেটি তাঁরা যেন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, প্রায় এক বছর আগে এ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর যে সংস্কার কমিশনগুলো গঠিত হয়েছিল, তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ প্রণয়ন করে। কিছু বিষয়ে সামান্য ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, যা জাতীয় সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এতে বোঝা যাবে, কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, কোথায় কোথায় ভিন্নমত ছিল এবং ভবিষ্যতে কোন প্রস্তাব বা সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অনুষ্ঠানের একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইÑ আমরা এমনভাবে আয়োজন করব, যাতে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেন। যদিও জাতীয় সনদে সব তথ্য মিলিয়ে প্রায় ৪০ পৃষ্ঠার মতো হয়েছে। তবে স্বাক্ষরের জন্য আমরা কেবল অঙ্গীকারনামার পাতাটি রাখব, যাতে আপনারা সবাই স্বাক্ষর করতে পারেন। স্বাক্ষর সম্পন্ন হলে সেটি সংরক্ষিত হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরে তাঁদের দল প্রস্তুত বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র ৪ মাস বাকি। দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ পরিস্থিতিতে নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন সম্ভব নয়। প্রধান উপদেষ্টা ঐকমত্য কমিশনের প্রথম সভায় বলেছিলেনÑ সব দল যেসব বিষয়ে একমত হবে, সেগুলো নিয়ে জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হবে। বাস্তবায়ন করবে জাতীয় সংসদ।
উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যেসব বিষয়ে দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করবে। নির্বাচনে জয়ী দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করবে।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। বলেন, আমরা চাই আপনার সঙ্গে প্রতিরক্ষার বাহিনীর সম্পর্কের
অবনতি না হোক, রাষ্ট্রের ব্যালান্স রাখতে হবে। আমরা নির্বাচন সামনে রেখে কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়তে চাই না, আমরা এটা মোকাবিলা করতে পারব না।
বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। যে কোনো উপায়েই হোক ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর হলেও পরবর্তীতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদেরই এর আইনি ভিত্তি দিতে হবে। আমরা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করব, তবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যেগুলো রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে। পরবর্তীতে ঐকমত্য কমিশন সনদের বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তাব রাখবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন পৃথক বিষয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নভেম্বরে গণভোট দিতে হবে। যেসব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেসব বিষয় একটি প্যাকেজ করে এর ওপর গণভোট হবে। তিনি বলেন, গণভোটে এমন কিছু দিক আছে, যেগুলো যদি হ্যাঁ/না ভোটে না হয়, তাহলে এর ভিত্তিতে নির্বাচনের ক্যারেক্টারে কিছু পরিবর্তন হবে। যেমন উচ্চকক্ষ বা পিআর পদ্ধতি। নির্বাচনের আগেই ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে পৌঁছতে হবে এবং সেই সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় নির্বাচনে উচ্চকক্ষের ভোট হবে। যদি এটি জাতীয় নির্বাচনের দিনই হয়, তাহলে তো উচ্চকক্ষ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আর পাস হলো না।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, একদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলে ভোট কাস্টিং একেবারেই অপ্রতুল হবে। কারণ, জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের কোনো গুরুত্বই থাকবে না।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবেন কি নাÑ এমন প্রশ্নে ডা. তাহের বলেন, আশা করি ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাব। সেদিনই বুঝতে পারবেন।
বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ‘সংবিধান আদেশ’ জারির মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, খসড়ায় কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। এসব বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি। সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তারও উল্লেখ নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ পরিষ্কার করেই সনদে স্বাক্ষর করতে চায় এনসিপি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতার কারণে শেষ মুহূর্তে সংশয় তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে আখতার হোসেন বলেন, সনদ সইয়ের শেষ মুহূর্তের কিছু বিষয় আমাদের মধ্যে সংশয়ের জায়গা তৈরি করেছে। জাতিকে অস্পষ্ট রেখে কোনো উদ্যোগ সফল করা সম্ভব নয়। আমরা জুলাই ১৬ তারিখে যে খসড়াটি পেয়েছি, সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’র বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হয়নি।
নোট অব ডিসেন্টগুলোকে একটি সঙ্গতিপূর্ণ আওতায় আনার দাবি জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, এটির একটি সংজ্ঞা প্রয়োজন এবং যেভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, সেই পথনকশা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পথকে পরিষ্কার করা। এর পরই আমরা সনদ স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হব। সব কিছু পরিষ্কার হওয়ার পর যদি সনদ স্বাক্ষরিত হয়, সেটিই হবে আমাদের সাফল্য।
আখতার হোসেন বলেন, একই সঙ্গে আমরা যে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছি, সেই গণভোটের প্রশ্ন এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। গণভোটের দিন-তারিখসহ বিষয়গুলো জাতির কাছে এবং আমাদের কাছেও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
গতকালের বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির তানিয়া রব, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েক সাকী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ বক্তব্য দেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আগে কমিশনের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে বামপন্থি পাঁচটি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর না-করার কথা জানিয়েছে। অঙ্গীকারনামায় পরিবর্তন ও বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি বহাল রাখার সুপারিশ না করায় জুলাই সনদে স্বাক্ষরে বিরত থাকতে পারে বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত দলগুলোসহ গণফোরাম ও বাংলাদেশ জাসদ। এ নিয়ে তারা যৌথ সভাও করেছে। কমিশনের বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও এসব দলের কোনো নেতা বক্তব্য রাখেননি।
সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের আয়োজনে সম্মত হলেও ভোটের সময়, ভিত্তি ও প্রশ্নপত্র নিয়ে এখনও দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির অবস্থান ভিন্ন। এ অবস্থায় আগামীকাল শুক্রবার সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।
ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যে কয়েকটি প্রস্তাবে কোনো কোনো দলের ভিন্নমত আছে।
এর মধ্যে সংবিধান বিলুপ্তি ও স্থগিত করণের বিষয়ে ২৯টি রাজনৈতিক দল একমত হলেও ভিন্নমত জানিয়েছে গণফোরাম, বাংলাদেশ জাসদসহ তিনটি দল।
তবে প্রধানমন্ত্রী যিনি থাকবেন তিনি দলীয় প্রধান বা সংসদ প্রধানের মতো একাধিক পদে থাকতে পারবেন না, এমন বিধানের পক্ষে ২৫টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছালেও এ নিয়ে ভিন্নমত দিয়েছে বিএনপিসহ ৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট।
সংসদে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন বিষয়ে শেষ পর্যন্ত মতপার্থক্য রয়ে গেছে। সনদে দেখা গেছে উচ্চকক্ষে পিআরের পক্ষে জামায়াত এনসিপিসহ ২৩টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হলেও এতে, ভিন্নমত রয়েছে বিএনপিসহ ৭টি রাজনৈতিক দল ও জোটের।