শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৫০ সকাল
আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পে ব্যয় কমছে ৭৫৫ কোটি টাকা

রাজধানীর জনপ্রিয় গণপরিবহন দেশের প্রথম মেট্রোরেল ‘এমআরটি (ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট) লাইন-৬’। উদ্বোধনের পর থেকেই মেট্রোরেল নগর যাতায়াতে বড় ধরনের স্বস্তি এনেছে। আধুনিক এই গণপরিবহন প্রতিদিন চার লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করছে। জাতীয় বিশেষ দিনগুলোতে যা সাড়ে চার লাখ ছাড়িয়ে যায়। কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত নির্মাণাধীন বাকি কাজ শেষ হলে দিনে ৬ লাখ ৭৭ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে এমআরটি-৬। 

জনপ্রিয় হলেও মেট্রো-৬-এর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে সমালোচনা আছে। বলা হয়ে থাকে, এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেট্রো প্রকল্প এটি। প্রতিবেশী ভারতের দিল্লি মেট্রোরেলের চেয়ে ব্যয় দুই-তৃতীয়াংশ বেশি হয়েছে এতে। আর পাকিস্তানের লাহোরে প্রথম মেট্রোরেলের চেয়ে দ্বিগুণ। চীনের সাংহাই শহরের প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয়ের পাঁচগুণ। এরকম সমালোচনার মুখে মাঝ পথে এসে কমছে মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয়। ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এ সম্পর্কিত একটি সংশোধন প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবার একনেক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 

সম্প্রতি এ সম্পর্কিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে সংশোধন অনুমোদনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, প্রায় ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য বিবেচনাযোগ্য। এই প্রস্তাব সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। 

সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬-এর বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মতিঝিল স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান কাঠামোর জন্য অতিরিক্ত ৩ দশমিক ৫৬ হেক্টর জমি আর প্রয়োজন হয়নি। এতে ১ হাজার ১২১ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। চারটি স্টেশন প্লাজা নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বাবদ ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে ১৬৫ কোটি টাকা। উত্তরা উত্তর, উত্তরা মধ্য, আগারগাঁও ও মতিঝিল স্টেশনে এই প্লাজাগুলো নির্মাণের কথা ছিল। এছাড়া মূল লাইন, সিভিল ও স্টেশন নির্মাণে ১১৬ কোটি টাকা, ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল (ইঅ্যান্ডএম) রেলওয়ে ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ৯০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও পুনর্বাসন পরামর্শ সেবায় প্রায় ৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। 

মেট্রোরেল-৬ (দক্ষিণ)-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল ওহাব। গত সেপ্টেম্বর থেকে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এমআরটি-৬ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। জানতে চাইলে গতকাল তিনি সমকালকে বলেন, পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাদ দেওয়া স্টেশন প্লাজাগুলোর খুব বেশি প্রয়োজন নেই। মেট্রোরেলের বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে প্লাজাগুলোর কথা ভাবা হয়েছিল। ব্যাংক বুথ, শপিংসহ বিভিন্ন সেবা সৃষ্টির লক্ষ্য ছিল তখন। পরে দেখা গেল, এগুলো লাভজনক নয়। বাদ দেওয়ায় এখন ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ বড় অঙ্কের টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদী তিনি। 

তবে ওই দুই খাতে ব্যয় সাশ্রয় হলেও ‍জাইকার ঋণের সুদ পরিশোধ, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কর্মকর্তা ও পরমার্শকদের বেতন ভাতা এবং মতিঝিল থেকে কমলাপুর স্টেশনে রোলিং স্টক অ্যান্ড ইকুইপমেন্টস ব্যয়সহ বাড়তি ব্যয় রয়েছে ১ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। 

ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ডিএমটিসিএল। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে এতে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মূলত, মতিঝিল-কমলাপুর অংশে ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটারের সম্প্রসারণের কাজ শেষ করতে এ সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে। এমআরটি লাইন-৬ দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্প। প্রকল্পের ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশটি ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হয়, তখন এটি উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল করত। পরে ২০২৩ সালের শেষে মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশন যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এবার অনুমোদন পেলে এটি হবে প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনী। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। 

সূত্র: সমকাল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়