শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:৪৩ দুপুর
আপডেট : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে সাড়ে ৬ লাখ কোটি খেলাপি, নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে বিপুল ঘাটতি

আমানতকারীদের জমানো অর্থই ঋণ হিসেবে বিতরণ করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আর সেই ঋণ সময়মতো আদায় না হলে রূপ নেয় খেলাপিতে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত বিতরণ করেছে ১৮ লাখ কোটি টাকার ঋণ, যার মধ্যে খেলাপি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। এদিকে গ্রাহকদের আমানত সুরক্ষায় যে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার কথা, সেখানে ঘাটতি দেখা গেছে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা।

দেশে খেলাপি ঋণের হিসেব শুরুর পর থেকে প্রায় ধারাবাহিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী এ সূচক। তবে, পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে খেলাপি ঋণের প্রবৃদ্ধি পেয়েছে অন্য মাত্রা, এখন যা রেকর্ড উচ্চতায়। খেলাপি ঋণের এই অস্বাভাবিক গতি প্রত্যাশিত—এমন মন্তব্য ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকিং বাংলাদেশ (এবিবি)’র সাবেক সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের। তার মতে, ব্যাংক ব্যবস্থার অনিয়ম–দুর্নীতির আগের চিত্রই এখন ফুটে উঠছে।

চ্যানেল 24-কে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশেষ করে আমাদের যারা ফরেইন পার্টনার আছে, তারা ভাববে এটা (খেলাপি ঋণ) যদি ৩৫-৩৬ শতাংশ হয়ে যায়, তাহলে দেশের কী অবস্থা হবে? এখানে তারা একটা সিস্টেমিক ইমপ্যাক্ট চিন্তা করতে পারে। এখানে একটি সমস্যা হতে পারে। 

এদিকে আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষায় খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা রাখতে পারছে না ব্যাংকগুলো। সেপ্টেম্বর শেষে যেখানে নিরাপত্তা সঞ্চিতি থাকার কথা পৌনে ৫ লাখ কোটি টাকা, সেখানে রয়েছে মাত্র সোয়া ১ লাখ কোটি। অর্থাৎ, ঘাটতি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা।

বিগত সময়ে ঋণের নামে ব্যাংক খাতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লুট করা হয়েছে আমানতকারীদের অর্থ—অভিযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগ প্রধান ড. শহিদুল ইসলাম জাহিদের। তিনি বলেন, জনগণের প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণের অর্থ যারা এখান থেকে তছরুপ করেছে এবং তাদের বিচার হবে না—এই বিচারহীন সংস্কৃতি আর কতদিন চলবে। যে বা যারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, তারা যত বড়ই হোক না কেন, যত শক্তিশালী হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। 

অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে বরং নীতি–সহায়তার নামে সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক লুটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা আজও আসেনি আইনের আওতায়।  উৎস: চ্যানেল24

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়