শিরোনাম
◈ নতুন মার্কিন বাণিজ্য নীতি: বাংলাদেশের রপ্তানিতে মারাত্মক হুমকি ◈ গুরুতর আহত মোজতবা খামেনি, গোপনে মস্কোতে অস্ত্রোপচার—আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি ◈ সৌদির সাড়ে ৭০০ মাইলের পাইপলাইন কি হরমুজ প্রণালির বিকল্প হতে পারবে ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ কীভাবে কোটি মানুষের খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে: আরটি’র রিপোর্ট ◈ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন বাণিজ্য জোটে বাংলাদেশের নজর ◈ সি‌রিজ জ‌য়ে আন‌ন্দিত ত‌বে শেষ ওভা‌রে ১৪ রান লাগ‌বে ব‌লে ভ‌য়ে ছিলাম: মিরাজ ◈ ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সর্বোচ্চ মিলবে ৪০ লাখ টাকা ◈ তানজিদের সেঞ্চুরি, তাসকিনের ঝলক—পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় ◈ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এলোপাতাড়ি গুলি, একজন আহত ◈ প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান

প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ০৫:০৬ সকাল
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফের অস্থির ডলারের বাজার

ডলারের বাজার হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিনেই ৫০ পয়সার বেশি বেড়েছে। আর এতে কমছে টাকার মান। শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। সপ্তাহের শেষদিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা; সর্বনিম্ন ১২২ টাকা ১০ পয়সা। আর  গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৪০ পয়সা। আগের দিন বুধবার সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২২ টাকা ২৫ পয়সা; সর্বনিম্ন ১২২ টাকা। গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৬ পয়সা। এক সপ্তাহ আগে ১৬ই অক্টোবর ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২১ টাকা ৮৬ পয়সা; সর্বনিম্ন ১২১ টাকা ৮০ পয়সা। গড় দাম ছিল ১২১ টাকা ৮৪ পয়সা। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ৫৬ পয়সা। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ০.৪৬ শতাংশ।

ব্যাংকাররা বলছেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। এতে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। সে কারণেই দাম বাড়ছে। এ ছাড়া দাম ধরে রাখতে নিলামে ডলার কিনেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটাও ডলারের দর বাড়ার একটি কারণ বলে জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে পণ্য আমদানির জন্য সবমিলিয়ে ৬৩০ কোটি (৬.৩০ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। আগের মাস আগস্টে এই অঙ্ক ছিল ৫.৩৮ বিলিয়ন ডলার। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ১৭.২৯ শতাংশ।

এদিকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বাড়ায় ব্যাংকগুলোতেও দাম বেড়েছে। খোলা বাজারেও (কার্ব মার্কেট) বাড়ছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১২৩ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২২ টাকায়। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। সিটি ব্যাংক ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ১২৫ টাকা ২০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এই দর ছিল ১২৪ টাকা। মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ী বলেন, হঠাৎ করেই ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। সে কারণেই দাম বেড়েছে। 

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ডলার দরে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, এটা চাহিদা এবং সরবরাহের অসামঞ্জস্যতা ছাড়া আর কিছু বলে মনে হচ্ছে না। ডলারের বাজার অনেক দিন ধরেই স্থিতিশীল ছিল। অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করেছে, যাতে তাদের অবস্থান কমবেশি নিরাপদ থাকে। অন্যদিকে, রেমিট্যান্স প্রবাহে সাধারণত মাসের ১৮ থেকে ২৫ তারেখের মধ্যে কিছুটা ধীরগতি দেখা দেয়। গত সপ্তাহে কিছু আমদানিকারক তাদের এলসির বিপরীতে কিছুটা আগেই পাওনা পরিশোধ করেছেন। আশা করা হচ্ছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ডলারের বাজার আগের অবস্থানে ফিরে আসবে এবং দর আগের মতো ১২২ টাকায় স্থিতিশীল হবে। আমাদের চলতি হিসাব এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। 

ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক: দাম ধরে রাখতে নিলামে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সবশেষ গত ১৪ই অক্টোবর ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। তার আগে ৯ই অক্টোবর কেনা হয়েছিল ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ নিয়ে তিন মাসে ১৫ দফায় সবমিলিয়ে ২১২ কোটি ৬০ লাখ (২.১৩ বিলিয়ন) ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত ডলার কেনা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো উপায় নেই। কেননা, বাজারে এখন ডলারের সরবরাহ বেশি। এ অবস্থায় না কিনলে ডলারের দর কমে যাবে। তাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মুদ্রাবাজারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পর ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৩ই জুলাই থেকে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে অর্থাৎ ডলারের দর যাতে কমে না যায় সেজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

রিজার্ভ: বছর পার হওয়ার পর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণে রিজার্ভ স্বস্তির জায়গায় এসেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণেও রিজার্ভ বেড়েছে। গত ৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে আকুর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের ১৫০ কোটি (১.৫০ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২৫.৩০ বিলিয়ন ডলার, গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩০.০৪ বিলিয়ন ডলার। গত দেড় মাসে সেই রিজার্ভ বেশ খানিকটা বেড়েছে। গত বুধবার (২২শে অক্টোবর) বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩২.১১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ৭৫৮ কোটি ৫৬ লাখ (৭.৫৮ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি। চলতি অক্টোবর মাসেও সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই মাসের ২২ দিনে (১ থেকে ২২শে অক্টোবর) ১৯২ কোটি ১০ লাখ (১.৯২ বিলিয়ন) ডলার দেশে এসেছে, যা গত বছরের অক্টোবর মাসের একই সময়ের চেয়ে ৭.৩ শতাংশ বেশি। উৎস: মানবজমিন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়