শিরোনাম
◈ বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব গড়তে চায় বিএনপি ◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৮ দুপুর
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

দেশে এক বছরে কোটিপতি বেড়েছে ১২ হাজার: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে মন্থর গতি এবং বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বৃদ্ধির উদ্বেগের মধ্যেই ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত রয়েছে এমন হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১২ হাজার। 

২০২৫ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশে এই ধরনের বড় অংকের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। এর ঠিক এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই এক বছরের ব্যবধানে দেশে নতুন করে ১১ হাজার ৯৬৩টি কোটিপতি হিসাব যুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল বার্ষিক ভিত্তিতেই নয়, বরং ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসেও কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে যেখানে এমন হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি, সেখানে ডিসেম্বর নাগাদ তা ৫ হাজার ৯৭৪টি বেড়ে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টিতে উন্নীত হয়েছে। 

এই হিসাবগুলোতে জমা থাকা অর্থের পরিমাণও সমানতালে বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর শেষে ৩৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে, কোটি টাকার হিসাব মানেই কেবল একজন ব্যক্তি কোটিপতি এমনটি নয়; কারণ ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বড় অংকের অর্থ জমা রাখে এবং একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যাংকে একাধিক হিসাব থাকতে পারে।

Advertisement

অর্থনীতিবিদরা কোটিপতি হিসাবের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে দেশে ক্রমবর্ধমান আয়বৈষম্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি মনে করেন যে, যখন একদিকে দারিদ্র্য ও ছদ্ম বেকারত্ব বাড়ছে, তখন কোটিপতি হিসাব বৃদ্ধি পাওয়া এটিই প্রমাণ করে যে সম্পদের সুষম বণ্টন হচ্ছে না। 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, রাজস্ব নীতি ও করকাঠামোতে বিদ্যমান বৈষম্যের কারণেই ধনীরা আরও ধনী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা সামাজিক বৈষম্যকে আরও গভীর করছে। বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এই বৈষম্য কমানো জরুরি বলে তারা অভিমত দিয়েছেন।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই প্রবণতাকে অর্থনীতির স্বাভাবিক সম্প্রসারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, দেশের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে বড় হচ্ছে এবং মানুষের গড় আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকের সংখ্যাও বাড়ছে, যার প্রভাবে বড় অংকের আমানতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে গত কয়েক বছর ধরেই কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২০ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, সেখান থেকে প্রতি বছর গড়ে কয়েক হাজার করে বেড়ে বর্তমানে তা ১ লাখ ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি দেশের আর্থিক খাতে একটি বিশেষ শ্রেণির মানুষের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সূত্র্র: আজকের পত্রিকা

  • সর্বশেষ