মনজুর এ আজিজ: বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় দেশব্যাপী এলাকাভিত্তিক এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পর চাহিদা বেড়েছে চার্জার লাইট, ফ্যান, আইপিএস ও পাওয়ার ব্যাংকের। চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ চার্জার লাইট, ফ্যান কিনতে ভিড় করছেন।
মার্কেটের রাজধানী ইলেকট্রনিক্স দোকানের ম্যানেজার মো. ইব্রাহিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের ঘোষণার পরই আমদানিকারকরা প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে পাঁচ কার্টন মাল চাইলে তাই দিত। আর এখন পাঁচ কার্টন মাল চাইলে দেয় এক কার্টন। বেশি দাম দিয়েও মাল পাওয়া যায় না। এ কারণে আমাদেরও মাল বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, চার্জার জাতীয় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রতিদিনই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন আমদানিকারকরা। গত দুই সপ্তাহে কোনো কোনো পণ্যের দাম ১ হাজার টাকা বেড়েছে। চায়নিজ একটা চার্জার ফ্যান ছয় মাস আগে ছিল ৩ হাজার টাকা, সেটি এখন ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
বায়তুল মোকাররমের বাইরে ফুটপাতের দোকানদার কামরুল জানান, কয়েক দিন ধরে বেচাবিক্রি বেড়েছে। তবে ইলেকট্রনিক্স বড় পণ্যের দাম বাড়লেও ছোট ছোট পণ্যের দাম তেমনটা বাড়েনি।
চার্জার ফ্যান ও লাইট কিনতে আসা ক্রেতা একজন সফল উদ্যোক্তা মো. মাহবুব মুসা জানান, প্রচণ্ড গরম আর লোডশেডিংয়ের হাত থেকে কিছুটা বাঁচতে চার্জার ফ্যান, লাইট কিনতে এসেছি। মনে করছি মোবাইলে চার্জ দেয়ার জন্য একটি পাওয়ার ব্যাংকও কিনব। তবে সরকারের এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের ঘোষণায় দোকানদাররা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে যে বাজেট ছিল তার থেকে প্রায় দেড়গুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।
তবে যেহেতু সরকার ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং করছে তাহলে ১ ঘন্টার পরিবর্তে আরও বেশি লোডশেডিং হতে পারে। তাই বেশি দাম দিয়েই এগুলো কিনতে হবে। এছাড়া আর তো কোনো উপায়ও নেই। তবে তিনি বলেন, পত্র-পত্রিকায় বিদ্যুৎ খাতে এতো উন্নয়ন দেখলাম আর এখন লোডশেডিং! এতে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদেশী এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মীরপুর এলাকার বাসিন্দা শরীফ জানান, চার্জার লাইট ও ফ্যান কিনেছেন বায়তুল মোকাররম মার্কেট থেকে। প্রতিদিন লোডশেডিং, তার মধ্যে অনেক গরম। ঘরে বাচ্চাদের খুব কষ্ট হয়। তাই বেশি দাম নিলেও অনেকটা বাধ্য হয়েই ফ্যান ও লাইট কিনলাম।