শিরোনাম
◈ ৭ মাসে ৩২ কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস; ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপের লক্ষ্য ◈ জেলখানায় গণ্ডগোলের ছকে আ.লীগ, শেখ হাসিনাকে নিয়ে নতুন গোলমালে দিল্লি ◈ স্ক্যামার নাকি ভিকটিম? 'স্ক্যাম সিটি'র অন্ধকার দুনিয়া, মিয়ানমারের সাইবার ক্রীতদাসদের গল্প (ভিডিও) ◈ ৩৫ টাকায় সিনেমার পোস্টার আঁকা থেকে জাতীয় পুরস্কার, আয়ের ৯০ শতাংশ দান: সাদাসিধে জীবনযাপনে নানা পাটেকরের বিদায় ◈ ভারতে চলমান আন্দোলনে সরাসরি মাঠে নামছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি (ভিডিও) ◈ ক‌ঠিন শ‌র্তে ৩৩০ কো‌টি ডলার বি‌দে‌শি ঋণ নি‌চ্ছে সরকার ◈ মারা গে‌ছেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর ◈ ফ্রান্সে ভয়াবহ ছাত্র বিক্ষোভের ম‌ধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, দেশ দখল করতে চাইছে ইসলাম ◈ নামিবিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ লিগ-২ চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র ◈ একজন ক্রিকেটার নি‌য়ে দিবাস্বপ্ন দেখ‌ছেন, নির্বাচকদের উপর ক্ষেপ‌লেন অ‌স্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন

প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ দুপুর
আপডেট : ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্ক্যামার নাকি ভিকটিম? 'স্ক্যাম সিটি'র অন্ধকার দুনিয়া, মিয়ানমারের সাইবার ক্রীতদাসদের গল্প (ভিডিও)

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক সাইবার স্ক্যাম সেন্টার এবং মানব পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আকর্ষণীয় বেতন ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীদের মিয়ানমারে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে। পরে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধে অংশ নিতে।

এ কারণে প্রশ্ন উঠছে—এসব সেন্টারে কাজ করা ব্যক্তিরা কি সত্যিই অপরাধী, নাকি তারাও মানব পাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের শিকার?

চাকরির প্রলোভনে পাচার

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভালো বেতন ও নিরাপদ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারকারী চক্র বিভিন্ন দেশ থেকে তরুণ-তরুণীদের মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণহীন সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর অনেকের পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভ্রমণ নথি কেড়ে নেওয়া হয়।

Advertisement

এরপর সশস্ত্র পাহারা, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের অনলাইন স্ক্যামিং, ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ এবং ডেটিং অ্যাপভিত্তিক প্রতারণার মতো কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে নির্যাতন

স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

অনেকেই এসব কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসতে বা পালিয়ে যেতে চাইলেও সশস্ত্র পাহারার কারণে তা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তারা নিজেরাই অনেক ক্ষেত্রে পাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হয়ে পড়েন।

‘সাইবার স্লেভারি’ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে মিয়ানমারের এসব স্ক্যাম সেন্টারকে আধুনিক মানব পাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের একটি রূপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টিকে ‘সাইবার স্লেভারি’ বা সাইবার দাসত্ব হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

একদিকে এসব সেন্টারের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়ে বিপুল অর্থ হারাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রতারণার কাজে বাধ্য করা পাচার হওয়া ব্যক্তিরাও বন্দিদশা, নির্যাতন ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিদেশে চাকরির প্রলোভনে সতর্কতার পরামর্শ

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, চাকরির ধরন, ভিসা ও যাত্রাপথসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে অস্বাভাবিক বেশি বেতন, দ্রুত ভিসা বা কোনো ধরনের যাচাই ছাড়াই বিদেশে চাকরির প্রস্তাব পেলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের এসব সাইবার স্ক্যাম সেন্টারের ঘটনা তাই শুধু অনলাইন প্রতারণার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম এবং আধুনিক দাসত্বের মতো গুরুতর মানবিক সংকট।