এল আর বাদল: শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের বিকল্প ছিল না, এখনো নেই—সেই বার্তা পরিষ্কার করে দিয়ে ঢাকাস্থ দিল্লির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আকস্মিক দিল্লিতে ছুটে গেলেন। ঢাকার দায়িত্বে আসার পর থেকেই এখানে কোনো বার্তা দিয়েই দিল্লি দৌড় দেওয়া তার রুটিন ওয়ার্কের মতো। এবারও তা-ই করলেন। দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি, তা পরিষ্কার করেই ছুটে গেছে দিল্লিতে। এটা তার অ্যাসাইনমেন্ট। ঠিকভাবেই তিনি তা করে চলছেন। শেখ হাসিনা দিল্লিতে এখনো বিশেষ মর্যাদায় আছেন, থাকবেন। শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তার পক্ষে এখনো বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছে ভারত। সেই সাথে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক একটা মাত্রায় পৌছানোর মিশনেও অটল ত্রিবেদী।----- সূত্র, ঠিকানা/নিউ ইয়র্ক
সমান্তরালে দেশটির বুদ্ধিবৃত্তিক একটি মহল ঝামেলা কাটাতে শেখ হাসিনাকে মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো নিরাপদ দেশে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিতে শুরু করেছে। তাদের মতে, শেখ হাসিনাকে ভারতে রেখে দেওয়া এবং বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ—দুই পথেই ভারতের বড় ধরনের কূটনৈতিক ঝুঁকি। তাই মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো দেশে তাকে স্থায়ীভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে থাকবে।
সরাসরি প্রত্যর্পণের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপও এড়াতে পারবে। ভারতের দ্য ডিপ্লম্যাট ‘ইন্ডিয়াস শেখ হাসিনা ডিলেমা’ শিরোনামে এ বিষয়ে নিবন্ধও প্রচার করেছে। সেখানে পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা এখন ভারতের জন্য একটি জটিল কূটনৈতিক সংকটের নাম। ১৫ বছর ধরে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর ভারতের বাংলাদেশ-নীতি অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল।
সেই নীতির সুফল হিসেবে ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও ট্রানজিটে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর সেই সম্পর্কই ভারতের জন্য নতুন সমস্যার কারণ হয়েছে। পত্রিকাটির এমন বিশ্লেষণের সঙ্গে ভারতের সরকারি অবস্থান মিলছে না। উপরন্তু বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন একটি আইনি বিষয় এবং তা আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করা হবে। এ প্রেক্ষাপটে ৩ অক্টোবর ঢাকায় বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের ‘প্রায় কোনো বিকল্প ছিল না’। তিনি বলেন, তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তাকে বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশি সামরিক বিমান ছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী তাকে ভারতে নিয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রত্যর্পণের বিষয়ে ত্রিবেদী বলেন, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আদালতও এর সঙ্গে যুক্ত। তাই শেখ হাসিনাকে কখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়।
দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে সরাসরি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো নতুন নীতি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ এবং ২০২৬ সালে শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রবেশের সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন করার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নয়াদিল্লি বিষয়টিকে কেবল ব্যক্তিগত আশ্রয়ের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিসর, বাংলাদেশের নির্বাচন এবং শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ—সবকিছুকে বৃহত্তর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে। শেখ হাসিনাও তার মতিগতিতেই আছেন। ডিসেম্বর ডেটলাইন থেকে সরেননি। বাড়তি হিসেবে নেতাকর্মীদের বলছেন প্রস্তুতি নিতে। এ মাসে তিনি ভিডিওতে সশরীরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তিনি একটি সাক্ষাৎকার দেবেন বলে বেশ কানাঘুষা চলছে।
যেখানে আমন্ত্রণ পেতে পারে পাঁচ-ছয়টি গণমাধ্যম। তাও একেবারেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলবেন। দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংবেদনশীলতা বেড়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকারকে পর্যন্ত বলতে হয়েছে, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের প্রতি অবিচার করছে এবং কারাগারে ভালো খাবার দেওয়া হচ্ছে না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা মনগড়া।
কেন হাফিজ উদ্দিন আহমদকে বলতে হয়েছে এমন কথা? এটি আসলে কথা বা মন্তব্য নয়, জবাবদিহি। ৪ অক্টোবর তানজানিয়ায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন-আইপিইউ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ার মুহূর্তে সাংবাদিকদের কাছে এ জবাব দিতে হয়েছে তাকে। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্য ও অভিযোগ নিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাদের কারাগারে রাখা নিয়ে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের কারাবন্দী বা আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড এবং তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা চলছে। দল এবং বিগত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাবশালীরা কারাগার থেকে তাদের দলীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিভিন্ন তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে। ক্ষেত্রবিশেষে দেশে-বিদেশে ফেরারি-পলাতকরাও এতটা পারছেন না। যোগাযোগ, লেনদেনসহ দলীয় কিছু কাজের জন্য কারাগার এখন উৎকৃষ্ট জায়গা।
দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ। কোনো কোনো জেলখানায় একজন কয়েদির জায়গায় থাকছে তিন-চারজন। এ সংখ্যা হু-হু করে বেড়ে চলেছে। ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ এ বন্দীদের মধ্যে বেশির ভাগ বন্দীই বিচারাধীন মামলায়। দণ্ডপ্রাপ্ত না হয়েও দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হচ্ছে অনেককে। আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েই তাদেরকে সংগঠিত করার কাজটি করছে। সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির চেয়ে হাজতি বেশি হওয়ায় তাদের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে গিয়ে সরকার ধরপাকড় বাড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগ সেটিকে নিচ্ছে সুযোগ হিসেবে। বাতাসে নতুন গন্ধ অনুভব করে দুই-আড়াই বছর ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে থাকার পর আওয়ামী লীগ শাসনামলে নানা পন্থায় শত শত কোটি টাকা কামাই করা কিছু লোক এখন কর্মব্যস্ত। ঘন ঘন বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে চেহাà