একের পর এক নারী নির্যাতনে যখন ক্ষোভ ঝরছে মানুষের মনে তখন সামনে এলো মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হওয়া সেই বর্বরতার একদিন পর মারা গেছেন দুই সন্তানের সেই জননী। চার ঘণ্টার একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে পুরো ঘটনা। জড়িতদের তালিকায় এক অটোরিকশা চালকসহ কয়েক যুবক।
গত ৩ মে মধ্যরাত। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের গলিপথ। এক নারীকে অটোরিকশা থেকে নামাচ্ছিলেন চালক, সঙ্গে আরো দুই যুবক। এরপর ওই নারীকে নেয়া হয় পাশের একটি ভবনের নিচতলায়। একটি সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ মেলে রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের। ঘটনাটি চলতি মাসের তিন তারিখের হলেও চাপা পড়ে থাকে অনেকটাই।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ছোট ভাই জানান, তার বোন মানসিক ভারসাম্যহীন। দুই কন্যা সন্তানের এই মা হবিগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন ২০ দিন ধরে।
ছোট ভাই আরও বলেন, প্রায় ছয় সাত মাস ধরে আমার বোন মানসিকভাবে অসুস্থ। তারপর আমরা ওকে আটকে রাখছি অনেকদিন। তারপর হঠাৎ একদিন বের হয়ে গেছে রাতে, আমরা জানি না। তারপর অনেক খোঁজাখুঁজি করছি ১৫ থেকে ২০ দিন কিংবা ২৫ দিনের মতো খোঁজাখুঁজি করছি। তারপর হঠাৎ একদিন শুনি যে ও নাকি মারা গেছে। আর কোনো বোন যেন এরকম একটা পরিস্থিতি না পড়ে। আমরা সঠিক বিচার চাই।
ধলপুরে কথা হয় ওই বাড়িটির মালিকের ছেলে ফয়সাল রহমানের সঙ্গে। ঘটনা সম্পর্কে কিছুদিন পর জানতে পারেন যিনি। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সে রাতে কেঁচি গেটের সামনে এসে ওপেন স্পেসের মধ্যে পায়জামাটা পরে। মানে মোটামুটি বোঝা শেষ যে, সে তার নৃশংসতা ভেতরে একবার চালিয়েছে। তো সে যখন পায়জামাটা পরা শেষ করে, তারপর আবার বাথরুম থেকে পাগলিটাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আমাদের ওই ওপেন স্পেসে ফেলে রেখে চলে যায়। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর আরও একজন আসে। আরও একজন এসে পাগলিটাকে আমাদের গলি থেকে ওঠায়। মানে মরা গরু যেভাবে আমরা টানি না? সে হচ্ছে মরা গরুর মতো পাগলিটাকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে আসে। আবার রাস্তা থেকে টেনে-হিঁচড়ে ওই পারে নিয়ে গিয়ে পাগলিটাকে ফেলে দেয়— মানে রাস্তার ওই সাইডে, বাড়ির অপোজিটে।
এরপর তৃতীয় আরেকজন আসে। তৃতীয় আরেকজন এসে রাস্তা থেকে আবার পাগলিটাকে ওঠায়। ওঠায় নিয়ে আবার হচ্ছে আমাদের যে স্পেসটা আছে, এখানে নিয়ে আসে। নিয়ে আসার পর সে পরপর তিনবার পাগলিটাকে রেপ করে।
ফুটেজে দেখা যায়, নির্যাতিত ওই নারী হামাগুড়ি দিয়ে এসে পড়ে থাকেন ভবনটির প্রবেশমুখে। পরদিন সকালে স্থানীয়রা ভিড় করেন সড়কে পড়ে থাকা নিথর দেহটির পাশে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার একদিন পর মারা যান তিনি।
গত ৫ মে একটি অপমৃত্যুর মামলা করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এর ১৭ দিন পর গেল ২২ মে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করে নির্যাতিতের ভাই। সিসিক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দুইজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে অন্যান্য আসামিরও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া অটোরিকশা চালক রুবেল ও স্থানীয় দোকান কর্মচারী জাকির হোসেন ধর্ষণে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে আদালতে। আর পলাতকদের ধরতে চলছে অভিযান।
">ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন-