শিরোনাম
◈ চট্টগ্রামে শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ◈ নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের শর্ত কতটা চ্যালেঞ্জের? ◈ ডিসেম্বরে দেশে ফিরব, দলের নেতাদের সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব: রয়টার্সকে হাসিনা ◈ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বড় উদ্যোগ: ৪১৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার, নতুন ১৩ উপজেলায় হাসপাতাল ◈ উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে ◈ টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পাঁচ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে, কয়েক জেলায় বন্যা শঙ্কা ◈ জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’, চরম সতর্কতা, ফ্লাইট বাতিল ও নিরাপদে সরানো হচ্ছে মানুষ ◈ নতুন দুই নদী বন্দর ঘোষণা করেছে সরকার, প্রজ্ঞাপন জারি ◈ একটা অভিযোগও মিথ্যা প্রমাণ হলে এই পোশাক খুলে ফেলব, থানায় ঢুকে এভাবে কেউ নির্যাতন করে, আমরা কার কাছে যাব: ওসি মাসুদ

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬, ০৮:১৫ রাত
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্লেনের ফাঁক-ফোঁকরে যেভাবে স্বর্ণ পাচার হয়

চলতি বছরের ২৮ মার্চ। সেদিন রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলের ফ্লাইটে সন্দেহভাজন তল্লাশি চালায় গোয়েন্দা সংস্থা ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক)। পরে ‘ইএ-৩৪৮’ নম্বর ফ্লাইটটির কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেল থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ১৮ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু এটিই নয়, এমন বড় বড় স্বর্ণের চোরাচালান হয় উড়োজাহাজের ভেতরে ‘সংবেদনশীল ও গোপন স্থানগুলো‘ ব্যবহার করে। আর সম্প্রতি চোরাচালান সিন্ডিকেটের এমন আরও কয়েকটি চোরাচালানের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যে ওপর ভিত্তি করে উড়োজাহাজের ভেতরে নজরদারি জোরদার করার জন্য এয়ারক্রাফট ওপারেটিং কমিটিকে (এওসি) কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

ইতিহাসের বড় চালান ও বিমানের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এর আগে দেশের ইতিহাসে বড় বড় স্বর্ণের চালান যেমন— ১২৪ কেজি, ১১৪ কেজি এবং ৬০ কেজি ওজনের চালানগুলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল। সেসব ঘটনায় উড়োজাহাজের পাইলট, কেবিন ক্রু ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিমানের অন্তত অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেফতারও হন।

সূত্র মতে, বিপুল অর্থের লোভ দেখিয়ে বিমানের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা, পাইলট, ক্রু এবং লোডারদের ম্যানেজ করে চোরাকারবারিরা এই নিরাপদ রুট তৈরি করে। শুল্ক, শুল্ক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতায় মাঝে এই প্রবণতা কিছুটা কমলেও, সম্প্রতি একটি চক্র আবারও উড়োজাহাজকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে স্বর্ণ নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

ধারণা করা হয়, যে পরিমাণ স্বর্ণের চালান ধরা পড়ে, তার চেয়ে বড় অংশ এই প্রক্রিয়ায় চক্রটি বাইরে পাচার করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

স্বর্ণ লুকাতে যেসব স্পর্শকাতর স্থান ব্যবহার করা হয়

উড়োজাহাজের এমন কিছু লুক্কায়িত জায়গা রয়েছে যা সচরাচর সাধারণ তল্লাশির আওতায় আসে না। চোরাকারবারীরা মূলত এগুলোকেই স্বর্ণ রাখার প্রধান স্থান হিসেবে বেছে নেয়। 

কার্গো হোলের অন্তর্মুখী প্যানেল বক্স: এটিকে উড়োজাহাজের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা মনে করা হয়। এখানে প্রায় ১২টি প্যানেল বক্স থাকে, যেগুলোর কাভার প্লেট স্ক্রু দিয়ে শক্তভাবে আটকানো থাকে। এর অভ্যন্তরে উড়োজাহাজের যাবতীয় ইউটিলিটি পাইপ ও সংবেদনশীল কানেক্টিভিটি আউটলেট থাকে। নির্দিষ্ট টেকনিশিয়ান ছাড়া এখানে কারও যাওয়ার কথা নয়।

বিশেষ করে ডিসি-১০ মডেলের মতো উড়োজাহাজগুলোতে এই স্থানটি চোরাচালানের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়। উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ১২৪ কেজি স্বর্ণের চালানটি এই প্যানেল বক্সের ভেতর থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল। 

ওয়াশরুম ও আনুষঙ্গিক স্থান: বিমানের ওয়াশরুমের ইংলিশ কমোডের পার্শ্ববর্তী স্থান, লুকিং গ্লাসের পেছনের খালি জায়গা এবং গ্যাস মাস্ক সকেট।

যাত্রী আসন: যাত্রীদের বসার সিটের নিচে ও পেছনের বিশেষ অংশ। 

প্রতিরোধে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও সুপারিশ 

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই চোরাচালান রুখতে বেশ কিছু কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— 

১. প্যানেল বক্স থেকে মালামাল নামানোর সময় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। 

২. উড়োজাহাজ অবতরণের পর যখন পরিষ্কার করার জন্য হ্যাঙ্গারে নেওয়া হবে, তখন সেখানে একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘চোরাকারবারী চক্রটি আবারও সক্রিয় হওয়ার পাঁয়তারা করছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি এবং উড়োজাহাজের ওইসব নির্দিষ্ট স্থানগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনতে বলেছি। এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে তারা আবারও বড় চালান পার করে দেবে।’

এই বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, ‘শুধু স্বর্ণ চোরাকারবারী নয়, যেকোনও ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে বিমানে তার কোনও স্থান হয় না। বিমানের কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেই হোক না কেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা মিললে আমরা কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।’ 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়