শিরোনাম
◈ ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ? ◈ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না, সবাই দোয়া করবেন: আইন উপদেষ্টা ◈ গুগলকে কনটেন্ট সরাতে অনুরোধের সংখ্যা নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা ◈ জামায়াতকে ভোট দিলে আমার মৃতদেহ পাবেন : ফজলুর রহমান (ভিডিও) ◈ প্রধান উপদেষ্টার প্রতি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ◈ বাংলাদেশ সিরিজ স্থগিত করে শ্রীলঙ্কা নারী দল‌কে আমন্ত্রণ ভারতের ◈ শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য জরুরি বার্তা ◈ এক শতক পর আবারও কি সিলেট ঝুঁকিতে? ডাউকি ফল্টে ভূমিকম্পের ধাক্কা! ◈ সুখবর পেলেন বিএনপির আরও ৯ নেতা ◈ বড় চা‌পে ইউ‌রোপ, চল‌ছে জ্বালানি, জলবায়ু, অর্থনীতি ও জনসংখ্যা সংক‌ট

প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৪ রাত
আপডেট : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কোটি টাকা আয়ের লোভে তক্ষকের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব রফিকুল, হারালেন ঘর-বাড়ি-সম্পদ! (ভিডিও)

কোটি কোটি টাকা আয়ের লোভে বিরল প্রজাতির তক্ষক সংগ্রহের নেশায় পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন মো. রফিকুল ইসলাম। এই প্রতারণার জালে জড়িয়ে তিনি শুধু অর্থই হারাননি, হারিয়েছেন নিজের বসতভিটা এবং প্রায় দশ বছর ধরে তিনি পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

‘খবরের কাগজ’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রফিকুল ইসলাম তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন:

কোটি টাকার হাতছানি ও সর্বস্ব হারানো
রফিকুল ইসলাম জানান, একটি ১৮ ইঞ্চি তক্ষক এনে দিতে পারলে ১০০ কোটি টাকা পুরস্কারের প্রলোভন তাঁকে এই পথে টানে। তিনি বিশ্বাস করতেন, এই তক্ষক বিক্রি করতে পারলে ‘কোটি কোটি টাকা’ আয় করা সম্ভব।

বিশাল অর্থের অপচয়: এই নেশায় পড়ে তিনি বাড়ি, জায়গা-জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। একবার খাগড়াছড়ি থেকে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে একটি তক্ষক সংগ্রহ করেন, যা ১৭ ইঞ্চি দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, সেটি মাত্র ১৩ ইঞ্চি।

প্রতারণার কৌশল: তিনি অভিযোগ করেন, বিক্রেতারা চোখে ধোঁকা লাগানোর জন্য ছোট তক্ষককে বড় দেখিয়ে দেয়, অথবা জাদুটোনা ব্যবহার করে আকার বদলে দেয়।

পরিবারের ক্ষতি: এই ব্যবসায় অন্তত ২০ লাখ টাকার বেশি লোকসান হওয়ার পর থেকে তিনি আর বাড়িতে যান না। এই 'নেশা' মাদক বা মদের নেশার চেয়েও কঠিন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তথাকথিত এই ব্যবসায় ১৭ থেকে ১৮ ইঞ্চি সাইজের তক্ষককেই 'চিকেন লেগ' বা 'মুরগির পাও' প্রজাতির তক্ষক হিসেবে দাবি করা হয়, যা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য গোপনে বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকে।

আকার নিয়ে বিভ্রান্তি: রফিকুল ইসলাম নিজে ৩৫০টিরও বেশি তক্ষক ধরলেও একটিও ১৭ বা ১৮ ইঞ্চি সাইজের পাননি। তার সর্বোচ্চ পাওয়া তক্ষকটি ছিল ১৬ ইঞ্চি, যা কেউ কিনতে রাজি হয়নি।

মৃত্যুর ঘটনা: রফিকুল জানান, তাঁর মতো বহু মানুষ এই গুজবে বিশ্বাস করে সব হারিয়েছেন। অনেকে টাকা জোগাড় করতে না পেরে বা হতাশায় ভুগে টেনশনে 'স্ট্রোক করে মারাও গেছেন'।

বর্তমানে এই ব্যবসাকে তিনি সম্পূর্ণ 'গুজব' বলে মনে করেন। নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তিনি পরিচিতদের সতর্ক করে বলেন, "এগুলির পিছনে আর সময় নষ্ট করো না, কাজ করো ভাত খাও – এইডাই ভালা"

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়