শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ০৮:২০ রাত
আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ০৮:২০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে কূলগাঁও বাস-ট্রাক টার্মিনাল প্রকল্প

কূলগাঁও বাস-ট্রাক টার্মিনাল প্রকল্প

শেখ দিদার, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কূলগাঁও বাস–ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পঅবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে ২৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সিটি মেয়র। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘ চার বছর ধরে আটকে ছিল।

চসিক সূত্র জানায়, নগরীর মাস্টার প্ল্যানে নগর উন্নয়নে কুলগাঁও এলাকায় ২৮ একর জমি চিহ্নিত করে রাখা হয়। উত্তর চট্টগ্রামের ১২টি রুটের বাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদন হয়। তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৮.১০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা।

প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর কুলগাঁওয়ের বালু ছড়ায় নির্মিতব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা, জমি উন্নয়ন ব্যয় ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, বাস-ট্রাক টার্মিনালের অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ ইয়ার্ড নির্মাণে ব্যয় হবে ২৫ কোটি টাকা। 

প্রতিদিন শহরে তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকশ বাস নগরে প্রবেশ করে। এছাড়া বন্দরকেন্দ্রিক আরো আট থেকে ১০ হাজারের বেশি ছোট–বড় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরিসহ অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়ি আসা–যাওয়া করে।

টার্মিনাল না থাকায় যত্রতত্র যানবাহনগুলো দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অথচ পরিবহনের চাপ বাড়লেও গত ২৯ বছরে নগরে কোনো বাস–ট্রাক টার্মিনাল গড়ে উঠেনি। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে শহরে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এ অবস্থায় বাস–ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রকল্প নেয় চসিক।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর ‘ম্যাচিং ফান্ড’র শর্ত ছাড়াই বাস–ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়নে এক হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়। তখন প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। সর্বশেষ গত বছর প্রকল্প ব্যয় ও মেয়াদ দুটোই বাড়িয়ে সংশোধন করা হয়। সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ২৬৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। সর্বশেষ আরো এক বছর বৃদ্ধি করে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়, তবে স্থানীয় ভূমি মালিকদের আপত্তিতে থমকে যায় অধিগ্রহণ কার্যক্রম। ক্ষতিপূরণ দেয়ার সময় ভূমি মালিকরা দাবি করেন, জমিগুলো নাল শ্রেণির। তবে জেলা প্রশাসনের সার্ভেতে নির্ধারণ করা হয় ডোবা বা খাই শ্রেণির।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে সে আলোকেই ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। অর্থাৎ ডোবা শ্রেণি হিসেবে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

এসংক্রান্ত একটি চিঠি গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামি ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে আসবেন। সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী কুলগাঁওয়ে বাস্তবায়নাধীন সিটি বাস টার্মিনাল প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আাগামী ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী পলোগ্রাউন্ডে জনসমাবেশের পূর্বে অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি আছে।

সেখানে আমাদের প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তালিকায় রাখার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি বলে জানান প্রকল্প পরিচালক চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সালেহ।তিনি আরো বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ হলে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে বেশি দিন লাগবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শেষ করে  পারব।

প্রতিনিধি/জেএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়