ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্তের ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা কঠোর, আবার কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কারণ, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিই টুর্নামেন্টের আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। সম্প্রচার সংস্থাগুলোর কাছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মাঠের লড়াই ট্রফির চেয়েও বেশি মূল্যবান বলে বিবেচিত হয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ায় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছুটা ক্ষতি হতো বটে, তবে তা সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি না হলে ক্ষতির পরিমাণ যে প্রায় ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে—এমনটাই দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। ধারণা করা হচ্ছে, এ অঙ্ক পুরো টুর্নামেন্টের বাজারমূল্যের চেয়েও বেশি। ম্যাচটি না হলে শুরুতেই বড় ধাক্কা খাবে ভারতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর এর প্রভাব পড়বে আয়োজক আইসিসির ওপর, যা ছড়িয়ে যাবে ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ আইসিসির অন্যান্য সদস্য দেশে। বিশেষ করে ছোট দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যাদের আয়ের বড় একটি অংশই আইসিসি থেকে পাওয়া লভ্যাংশের ওপর নির্ভরশীল।
২০০৭ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে আইসিসি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ রাখার জন্য টুর্নামেন্টের কাঠামোই পরিবর্তন করেছে। কারণ, প্রতিটি টুর্নামেন্টে অন্তত একবার হলেও এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের ম্যাচ রাখলে আইসিসির লভ্যাংশ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। একাধিক ম্যাচ থাকলে সেই লাভ আরও বৃদ্ধি পায়।
উদাহরণ হিসেবে, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন প্রাথমিকভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সে সময় শুধু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বিক্রি হয়েছিল ১২ হাজার ডলারে। এরপর আইসিসি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো ট্রফির আয়োজন বৃদ্ধি করে। তার পরের বছরগুলোতেও এ ধারা চলেছে।
৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া নতুন বিশ্বকাপে জিও-স্টার সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রতি ১০ সেকেন্ড বিজ্ঞাপন ২৫-৪০ হাজার ডলারের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করেছে। কোনো কারণে যদি এই ম্যাচটি না হয়, পুরো ক্ষতির মুখে পড়বে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানটি। যেসব খাতে বড় ক্ষতি হতে পারে…
সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি
আইসিসির আয়ের মূল উৎস হলো সম্প্রচার স্বত্ব। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি রুপির (৪৫০ কোটি টাকা) বেশি আয় হারাবে। এ ছাড়াও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই ম্যাচের সময় রেকর্ডসংখ্যক দর্শক যুক্ত হয়। ম্যাচ না হলে সাবস্ক্রিপশন থেকে আসা সম্ভাব্য আয় এবং ডিজিটাল এনগেজমেন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আইসিসির লভ্যাংশ
বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ওপর নির্ভর করেই বছরের আয়ের মাত্রা হিসাব করে আইসিসি। দুই দলের ম্যাচ না হলে রাজস্বে টান পড়তে পারে, আর তার জন্য সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেট উন্নয়নের ওপর প্রভাব পড়বে। কেননা, আইসিসির আয়ের ওপর নির্ভর করে চলে অনেকগুলো দেশের ক্রিকেট কাঠামো।
পিসিবির ক্ষতি
আইসিসির বার্ষিক রাজস্বের ৫.৭৫ শতাংশ পেয়ে থাকে পাকিস্তান। টাকার অঙ্কে যা ৩৪৫ কোটির বেশি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে টান পড়তে পারে এ লভ্যাংশেও। এ ছাড়া জরিমানাসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে তারা।
ভারতের ক্ষতি
পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা না হলে ভারতের ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না। কেননা, তাদের বড় আয় আইসিসি থেকে পাওয়া রাজস্বের ৩৮.৫ শতাংশের পাশাপাশি আইপিএল। তবে সম্প্রচারের দিক থেকে দেশটির চ্যানেলগুলোই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
শ্রীলঙ্কার ক্ষতি
টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টের আয়ের অংশও পাবে তারা। আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেশটিতে হওয়ার কথা ছিল। এতে দেশটির ট্যুরিজম খাতে বড় প্রভাব পড়তে পারত। কিন্তু ম্যাচটি না হলে সেখানে ব্যাপকভাবেই লোকসান হতে পারে।
সূত্র: কালবেলা