শিরোনাম
◈ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত : ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে দিল্লিতে মুখোমুখি পুতিন, জিনপিং ও মোদী ◈ ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, জানালেন চিফ হুইপ ◈ নতুন ঋণের নির্ভরতা কমছে, পুরনো ঋণ পরিশোধে সরকারের জোর (ভিডিও) ◈ মাঠে জমে থাকা পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ শিশুর ◈ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০ ◈ ৬৪ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতি বৃদ্ধাশ্রম খুলে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড ◈ আহত সেনা কর্মকর্তাকে সিএমএইচে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেলসহ আটক ২ ◈ হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু ◈ ঢাকায় বন্ধুর বাসার পাশে মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর মরদেহ

প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৬:০২ বিকাল
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৬:০৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সংরক্ষিত আলামত দেখে মরিয়ম বললেন ‘এটাই আমার মা’

মরিয়ম

আল আমিন, ময়মনসিংহ : গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পানি আনতে গিয়ে নিখোঁজ মা রহিমা বেগমের খোঁজে মেয়ে মরিয়ম ছুটেছেন দুয়ারে দুয়ারে। খুলনা থেকে শুক্রবার ময়মনসিংহের ফুলপুর এসে থানার পুলিশ কর্তৃক মরদেহের সংরক্ষিত বিভিন্ন আলামত দেখে মরিয়ম বলেন, এটাই আমার মা। তবে পুলিশ বলছে, চূড়ান্ত সমাধান হবে ডিএনএ পরীক্ষার পর। 

খুলনা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ৩৫৭ কিলোমিটার। শুক্রবার দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিয়ে মরিয়ম মাকে শনাক্ত করতে এসেছেন ফুলপুরে। উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি মরদেহের বিভিন্ন আলামত ও কাপড় দেখে দাবি করলেন এটাই তার মার মরদেহ। 

গত ১০ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের বওলা পূর্বপাড়া গ্রামের কবরস্থানে বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া যায়। পাশের একটি মসজিদের নির্মাণকাজ করা শ্রমিকেরা দুর্গন্ধের উৎসের খুঁজতে গিয়ে পান মরদেহটি। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাত হিসেবে ১১ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের আঞ্জুমানে হেমায়েত গোরস্থানে দাফন করে। 

এ ব্যপারে ফুলপুর থানার এসআই সবুজ মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তাতে নারীর বয়স উল্লেখ করা হয় ২৮ বছর। কিন্তু ফুলপুরে উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহটি খুলনা নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগমের (৫২) বলে দাবি করা হচ্ছে। রহিমা ওই এলাকার প্রয়াত মান্নান হাওলাদারের স্ত্রী। নিহতের ছোট মেয়ে তেজগাঁও কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মরিয়ম বেগম ওরফে মরিয়ম মান্নান দাবি করছেন ফুলপুরে উদ্ধার হওয়া নারীই তার মা।

শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফুলপুর থানায় যান মরিয়ম মান্নান, তার বোন মনি, মাহফুজা আক্তার, আদরী আক্তার, ভাবী, চাচাতো ভাই রুম্মান হোসেন ও মরিয়মের এক ভাতিজা। পুলিশের কাছে সংরক্ষিত বিভিন্ন আলামত দেখানো হয় তাদের। ওই সময় পায়জামা দেখে ও মাথার চুল দেখে ‘এটাই মা রহিমা’ বলে শনাক্ত করেন মেয়ে মরিয়ম। পরিবারের অন্যরাও একই দাবি করেন। এ সময় তাদের আহাজারিতে সেখানে বেদনাঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রহিমাকে প্রতিপক্ষরা হত্যার পর ফুলপুরে এনে ফেলে গেছে বলে ধারনা স্বজনদের। 

মরিয়ম গণমাধ্যকে বলেন, মাকে চিনতে আসলে কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় না। আমি নিশ্চিত এটাই আমার মায়ের মরদেহ। পায়জামাটা আমার মায়ের। আমার মায়ের ওপর যারা হামালা করেছিল, তারাই তাকে হত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মরিয়ম লেখেন, মরদেহটি পঁচা-গলা অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। অফিসিয়াল প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করছি। আমার মায়ের কপাল, হাত ও শরীর দেখার পর আমি কিভাবে ভুল করি! আমি সন্দেহ করি এটাই আমার মা। 

গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নামেন খুলনার রহিমা বেগম। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। নিখোঁজের ঘটনায় ছেলে মো. সাদী দৌলতপুর থানায় জিডি করেন। ২৮ আগস্ট থানায় একটি মামলা করা হয় প্রতিপক্ষ লোকজনকে আসামি করে। 

রহিমা বেগমের স্বামী মান্নান হাওলাদার মারা যাবার পর আবার বিয়ে করেন। খুলনার বাড়িতে একাই থাকতেন রহিমা। ঘটনার দিন মরিয়মের মায়ের স্বামী বাড়িতে ছিলেন। মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এ কথা তিনিই মেয়েদের ফোন করে জানান। পরিবার থেকে জানানো হয়, খুলনার বাড়িটি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে অনেক দিন ধরে ঝামেলা চলছে।

মরিয়ম বাদী হয়ে মামলাও করেছিলেন। মামলার পর আসামিরা হামলা করলে রহিমা আরেকটি মামলা করেন। এসব কারণে উত্তেজনা চলছিল। রহিমার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে এসবের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।

ফুলপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খুলনা থেকে মরিয়ম মান্নানসহ কয়েকজন থানায় এসে আবেদন জানিয়েছেন উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীর লাশ তাদের মা। তাদের আবেদন গ্রহণ করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাইয়ের পর লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। সম্পাদনা: মাজহারুল ইসলাম

  • সর্বশেষ