শিরোনাম
◈ সনের নেতৃত্বে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামছে এশিয়ার দল দক্ষিণ কোরিয়া ◈ কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর হবে নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০১:১১ দুপুর
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০১:১১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আদমদীঘিতে ভরা মৌসুমেও মাছের দামে আগুন

মনে হচ্ছে আজও মাছ ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হবে : ক্রেতাদের ক্ষোভ

আমিনুল জুয়েল : গ্রামীণ লোককথায় রয়েছে-আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় ভাতের সাথে রয়েছে মাছ। মাছ ছাড়া চলেইনা আমাদের একদিন ও। কিন্তু নানা অজুহাতে সব ধরনের মাছের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। ছোট কিংবা বড় সব মাছেরই দাম এখন আকাশছোঁয়া।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে মাছের দাম। ক্রেতারা বলছেন, মাছ বাজারে যেন আগুন লেগেছে। মাছের ভরা মৌসুমেও দাম বেড়েছে কয়েকগুণ । চড়া দামে অনেকেই বাজার থেকে মাছ ছাড়া বাড়ি ফিরছেন। কেউবা চাহিদার তুলনায় সামান্য পরিমাণ মাছ কিনছেন।

আর ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত মাছ নেই। বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশি দামে মাছ কিনতে হয়েছে। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার মাছ বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, এতে আমাদের করার কিছুই নেই।

বরং আমাদের প্রতিদিনের বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা আসছেন কিন্তু চাহিদা মাফিক মাছ কিনছেন না।

সরেজমিনে মাছ বাজারে গিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি শিং মাছ (আকার ভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে ২৮০ থেকে ৩৩০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, মৃগেল ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায়, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, কাতল ১৯০ থেকে ২৫০ টাকায়, টেংরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ২০০ টাকায়, সিলভার কার্প ১৬০ থেকে ২১০ টাকায়, দেশি কৈ মাছ ৫০০ টাকায়, চাষের কৈ ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, দাম বেড়েছে ইলিশেরও। এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১ হাজার টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকায়। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

 জাটকা ইলিশ (সবচেয়ে ছোট) বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। সকালে মাছ কিনতে এসেছেন সদরের শিবপুর গ্রামের বাদল হোসেন। তিনি জানান, ‘মাছের দাম যেভাবে বেড়েছে এখন আর নিয়মিত মাছ খাওয়া সম্ভব না। সব পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে কিন্তু আমাদের বেতন’তো আর বাড়ছে না।

তাই কোনো ভাবেই সমন্বয় করে চলা সম্ভব হচ্ছে না।’ আরেক মাছ ক্রেতা আসলাম হোসেন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘দুই-তিনশত টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। মনে হচ্ছে, মাছ ছাড়াই বাড়ি ফিরতে হবে। আগে একসঙ্গে এক হাজার টাকার মাছ কিনতাম। এতে সপ্তাহ থেকে দিন দশেক চলে যেত। এখন মাছের যে দাম। দেখেই ভয় লাগছে। এই টাকার মাছে চার থেকে পাঁচদিন চলবে। বাকি দিনগুলি মাছ ছাড়াই চলতে হবে।’ 

আদমদীঘি মাছ বাজারের বিক্রেতা আনন্দ কুমার জানান, ‘সবধরনের মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী, নালা, বিল থেকে মাছ কম আসছে। সান্তাহার মাছের পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারনে বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে।

আমরা কম দামে কিনতে পারলে বা পাইকারি বাজারে আমদানি বেশি থাকলে দাম কমবে মাছের। বাজারের সুবল, অর্জুন, মিজানসহ আরও মাছ বিক্রেতারা জানান, ‘যাতায়াত ভাড়াসহ আনুসাঙ্গিক সব জিনিসের দাম বাড়ার কারণে মাছের দামও বেড়েছে।

আমরা পাইকারি আড়ৎ থেকে এনে মাছ বিক্রি করি। আড়তে দাম বাড়লেতো আমাদের কিছুই করার থাকে না।’আরেক বিক্রেতা রামিন বলেন, ‘ মাছ বিক্রি কমে গেছে।

ক্রেতারা বাজারে এসে দামের কারণে পছন্দ মতো মাছ কিনতে পারছেন না। নিয়মিত ক্রেতা অনেকেই দেখে দেখে ঘুরে যাচ্ছেন। এতে আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে।

কিন্তু কী করব, আমাদের হাতের মধ্যেতো কিছুই নেই। শুধু চেয়ে থাকছি।  সম্পাদনায় : আল আমিন 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়