আরমান কবীর : টাঙ্গাইলে শিশু সাইফ আহমেদ ওয়ালিদ হত্যা মামলায় সৎমা সাবরিন নাহার সিনথিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত সাবরিন নাহার সিনথিকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শিশু সাইফ টেলিভিশন দেখছিল। উচ্চ আওয়াজে টিভি দেখার কারণে সৎ মা সাবরিন নাহার সিনথি ক্ষিপ্ত হয়ে যান।
তিনি শিশুটিকে পাশের রুমে ডেকে নিয়ে ওড়না দিয়ে হাত ও নাক-মুখ বেঁধে ফেলেন। শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং ডাকাতির নাটক সাজাতে তিনি শিশুটির হাত-পা বেঁধে বাথরুমে নিয়ে পানিভর্তি বালতিতে মাথা ডুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এরপর ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে স্বামীর কাছে ফোনে ডাকাতির মিথ্যা তথ্য জানান।
দণ্ডিত সাবরিন নাহার সিনথি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিহত শিশুর বাবা সালাউদ্দিন ইমনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। নিহত শিশু সাইফ আহমেদ ওয়ালিদ সালাউদ্দিন ইমনের প্রথম ঘরের সন্তান।
ঘটনার পর নিহতের দাদা সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রতীমা রানী তরফদার তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে আসামি সাবরিন নাহার সিনথি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।