ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনানুগ ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।
পরে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, ‘উই কেয়ার ফেজ-১, N7’ প্রকল্পের আওতায় যশোর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অংশের ভুক্তভোগীরা এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরে কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। দাবিগুলোর হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক - কর্মচারীদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা, ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং হুকুম দখল আইন অনুযায়ী বর্তমান বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা, যশোরের ন্যায় ঝিনাইদহ অংশের ব্যবসায়ীদের সমভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের উচ্চ আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা ওঅধিগ্রহণসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং বরাদ্দের অর্থে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত করা।
আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একই প্রকল্পের অধীনে যশোর ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলা অংশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ পেলেও কালীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা কেন বঞ্চিত হবেন?" তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যথাযথ নোটিশ ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো স্থাপনা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে দেওয়া হবে না এবং কালীগঞ্জ অংশে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে তাদের দাবিদাওয়া শোনেন এবং বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। ইউএনও-র আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।