হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সদরপুরে নিখোঁজের সাড়ে চার মাস পর শিশু সামিউল ইসলামের (৮) সন্ধানে ঘরের পাকা ফ্লোর কেটে রাতভর মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে রাত ৩টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে কোনো লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ সামিউল উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াকান্দি এলাকার প্রবাসী মিরাজুল মল্লিকের ছেলে।
স্থানীয় ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, শিশু সামিউল নিখোঁজের ঘটনায় রোববার (১ নভেম্বর) সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে পিবিআই। আটক ব্যক্তিরা হলেন—সদরপুর উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের আলামিন (৩৬) ও মোস্তফা ফরাজী (৫০) এবং নগরকান্দা উপজেলার গোয়ালদী গ্রামের ফরিদ মাতুব্বর (৩৫) ও সুজন মাতুব্বর (৩৭)।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নয়াকান্দি গ্রামের লাভলী বেগমের (৩৫) তালাবদ্ধ বসতঘরে অভিযান চালায় পিবিআই।
এরপর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘরের ভেতরের পাকা ইটের ফ্লোরের ঢালাই কেটে প্রায় ছয় ফুট গর্ত খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হয়। রাতভর তল্লাশি শেষেও সামিউলের কোনো সন্ধান না মেলায় ভোররাত ৩টার দিকে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। উদ্ধার অভিযান দেখতে স্থানীয় কয়েক শতাধিক উৎসুক জনতা ভীড় জমান।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন নয়াকান্দি গ্রাম থেকে শিশু সামিউল রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। পরদিন তার চাচা সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চারজনকে আটক করে এবং তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অনুসন্ধান চালায়।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, শিশু সামিউলকে উদ্ধার ও রহস্য উন্মোচনে পিবিআইয়ের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তবে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও শিশুটির কোনো খোঁজ না মেলায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।