মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম (৫৫) হত্যা মামলার দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত সিরাজুল ইসলামের শ্যালক শেখ মোস্তান (৩৬) ও সৎ ছেলে কাজী মো. শাহাবাজ হোসেন (২১)।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় পটিয়া থানার একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ঢাকার এসআরবি-১০-এর সহায়তায় যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন গভীর রাতে পটিয়া উপজেলার ৬ নম্বর কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনসা এলাকার ফোরক সওদাগরের বাড়িতে নিজ শয়নকক্ষে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধ ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ১৮ জুন পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের শ্যালক শেখ মোস্তান, দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাম্মৎ মিনহারা আক্তার ববি, সৎ ছেলে কাজী মো. শাহাবাজ হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তারের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পটিয়া অটো টেম্পো সিএনজি সমবায় সমিতির সভাপতি বদিউল আলম।