পাহাড়ের আকাঁবাঁকা পিচঢালা সড়কের দুপাশে সবুজের সমারোহ চোখে পড়ার মতো। প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এমন সৌন্দর্য চোখে পড়বে। সড়কের পাশেই আছে লেক। লেকের স্বচ্ছ পানি দেখে মনে হবে, আপনাকে আপন করে নিতে চাইছে। এই লেকে ছোট ছোট বোটে ঘুরতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। এটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত ভাটিয়ারি লেক।
লেকের চারপাশে বিশাল বিশাল পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। মাঝে অপূর্ব সুন্দর একটি লেক। সেনাবাহিনীর এলাকার মধ্যেই পড়েছে লেকটি। তাই যেমন পরিচ্ছন্ন; তেমনই সুন্দর পরিবেশ। আবার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই এখানে। শেষ বিকেলে লেকের পানিতে খাদ্য আহরণ করতে থাকে সাদা বক।
অনেকে লেকের পানিতে নৌকায় বসে ভ্রমণ করছেন। কেউ কেউ লেক পাড়ে বসে আড্ডা জমিয়ে তুলছেন। চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে এই লেকের দূরত্ব মাত্র ২০ মিনিটের। তাই কেউ চট্টগ্রাম ভ্রমণে এলে সহজেই এই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
চারদিকে পাহাড়ের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য, উদার বিশাল আকাশ মনকে এমনিতেই ভরে তোলে নির্মল আনন্দে। শরতে লেকের রূপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বস্তুত এখন থেকেই পানি বাড়তে শুরু করেছে লেকে। সাথে বেড়ে চলেছে এর মাধুর্য। দিনের যে কোনো সময় লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বিকেলের দৃশ্য খুবই অপরূপ।
লেকের পাশেই আছে গলফ ক্লাব যেখানে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত গলফ কোর্স চলে। লেকের পানির স্বচ্ছতা নিঃসন্দেহে মুগ্ধ করবে আপনাকে। আপনি ভুলে যাবেন যান্ত্রিক শহরের যত ক্লান্তি।
আপনি চাইলে নৌকায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন লেকে। মাছ ধরতে পারবেন। ভাটিয়ারির সান পয়েন্ট থেকে দেখতে পারবেন অসাধারণ একটি সূর্যাস্ত যা হয়ে থাকবে চিরস্মরণীয়। বন্ধুরা মিলে বেড়াতে যেতে পারেন আবার পারিবারিক ভ্রমণের জন্যও চমৎকার জায়গাটি।
কীভাবে যাবেন
দেশের যে কোনো স্থানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি নামতে হবে। এরপর সেখান থেকে লেকে যাওয়ার জন্য লোকাল সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও খোলা জিপ আছে। এ ছাড়া হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘির পাড় এলাকা থেকেও একইভাবে যাওয়া যায়।
থাকা-খাওয়া
ভাটিয়ারিতে তেমন ভালো মানের আবাসিক হোটেল নেই। তবে ২০ মিনিট দূরত্বে একে খান ও অলংকার মোড়ে রিসোর্টসহ বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। খাওয়ার জন্য বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট আছে।
সূত্র: জাগো নিউস ২৪