শিরোনাম
◈ বয়স্ক ভাতা আনতে গিয়ে জানতে পারেন সরকারি খাতায় তিনি মৃত, ৯ বছর ধরে নিজেকে জীবিত প্রমাণের লড়াই কাশেমের ◈ সেঞ্চু‌রি না পে‌য়ে হতাশ শান্ত ও মুশফিক, আফগা‌নিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে চালকের আসনে বাংলাদেশ ◈ বিএনপিতে অপকর্মে জড়ালে ছাড় নয়, চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: এমপিদের কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ◈ নাটোর রেলস্টেশন থেকে জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার (ভিডিও) ◈ নানা পাটেকরের কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল? ময়নাতদন্তে যা জানা গেল ◈ রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা, যাত্রী টার্মিনালে আগুন; ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত ◈ গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করতে জীবিত গরু ও হালাল মাংস আমদানির দাবি ◈ সরকারিভাবে এখন থেকে পালিত হবে ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস ◈ ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়, হাইকোর্টে খালাস পেলেন দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী ◈ কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০৮ বিকাল
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পদ্মা নদীর গ্রাসে ফরিদপুরে বিলীন ৮০ লাখ টাকার সেতু

হারুন-অর-রশীদ, ​ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর সদরে পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মিত ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই জেলার প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ।

​শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় সেতুটি অবস্থিত। পদ্মা নদীর মূল ধারা ও একটি শাখা নদীর মধ্যবর্তী চর এলাকায় নির্মিত এই সেতুটি দিয়ে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মন্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের অধিবাসীরা যাতায়াত করতেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছরাগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের অন্তত ২ হাজার মানুষ দৈনিক এ পথে চলাচল করতেন।

​এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রশস্ত এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

Advertisement

​নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তফা হোসেন জানান, গত দুই মাস আগে থেকেই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়, তবে গত ১৫ দিনে তা মারাত্মক রূপ নেয়। গত চার দিন ধরে সেতুটির পূর্ব পাশের সড়ক ভাঙনে বিলীন হচ্ছিল। শনিবার সকালে সেতুর পূর্বের অংশ নদীতে ধসে পড়ে।

​তিনি আরও জানান, গত দুই মাসের নদীভাঙনে ওই এলাকার আদর্শ গ্রামের ৫০টি পরিবারসহ মোট ২৫০টি বসতবাড়ি নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। এছাড়া অন্তত ৮২৫ একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে।

​নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, “সেতুটির পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এটি নদীতে বসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেললেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি।”

​ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, কবিরপুর এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেতুটি রক্ষায় ১৫০ মিটার অংশে বালুর বস্তা ফেলা হলেও নদীভাঙন প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত থাকায় এটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা মৌসুমের কারণে তাৎক্ষণিক বড় পদক্ষেপ নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

​ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “গত ৩৫ বছরে ওই এলাকায় এমন তীব্র ভাঙন দেখা যায়নি। নদী তার পুরনো রূপ ও প্রবাহে ফিরে আসছে বলে মনে হচ্ছে।”

​এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, সেতুর দুই পাশেই পদ্মার দুটি ধারা প্রবাহিত এবং উভয় পাশেই ভাঙন চলছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে অন্তত ৫০০ মিটার ভেতরে চলে এসেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটারজুড়ে এই ভাঙন বিস্তৃত। ভরা বর্ষায় এ অবস্থায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। পানি কমলে বিশেষজ্ঞ দল এনে পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ