ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মসজিদসংলগ্ন কক্ষে শামীম মিয়া (২৫) নামে এক ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একই কক্ষে তার বন্ধু সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের ইছামুদ্দিন সরকার বাড়ি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম ওই মসজিদের ইমাম ও একই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। আহত সোহান (২৪) একই গ্রামের মৃত ছইদু মিয়ার ছেলে। তারা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অবিবাহিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে তারা মসজিদসংলগ্ন একটি কক্ষে একসঙ্গে রাতযাপন করতেন।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার রাতে ওই কক্ষ থেকে হট্টগোলের শব্দ শুনে তারা সেখানে যান। এ সময় সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শামীম তাকে আঘাত করেছেন বলে জানান সোহান।
পরে স্থানীয়রা সোহানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরপর শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মসজিদসংলগ্ন ওই কক্ষে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে ভোরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
শামীম স্থানীয় ফেকামারা আলিম মাদরাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি ওই মসজিদে ইমামতি করতেন। স্থানীয়রা জানান, দুই বন্ধুর মধ্যে আগে কোনো বিরোধ বা মনোমালিন্যের কথা তাদের জানা ছিল না।
শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ও চাচা আবু তাহের বলেন, শামীম এলাকায় কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতে জড়াতেন না। তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেবেন, তা আমরা বিশ্বাস করি না। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানাচ্ছি।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আলামত দেখে শামীমের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আহত সোহানের জবানবন্দি পাওয়া গেলে ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।