শিরোনাম
◈ কারিগরি শিক্ষায় ‘শিখবে-তৈরি করবে-আয় করবে’ মডেলের প্রস্তাব ◈ লাইসেন্সবিহীন ২২ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ◈ সংবিধান সংশোধনে সর্বস্তরের মতামত গ্রহণে উদ্যোগ, ডিসেম্বরেই প্রতিবেদন প্রস্তুতের লক্ষ্য ◈ সমঝোতার নতুন ধারা: কার্যকর সংসদ গঠনে সরকার–বিরোধী একসুর ◈ জুলাই-আগস্টে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ডলার ◈ টানা বৃষ্টি-ঝড়ে বিপর্যস্ত উত্তর প্রদেশ, তিন দিনে ৫৬ জনের মৃত্যু ◈ আবাসনে এডিবির ১০ কোটি ডলার ঋণ : বাড়ি নির্মাণে সুবিধা পাবে ৪০ হাজার পরিবার ◈ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৪ ◈ হাম উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু ◈ কৃষকরাই দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ ও দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১০ রাত
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিআরটিসির বাসে ট্রিপপ্রতি ২০০–৩০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে বিআরটিসি (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন) বাসের টিকেট বিক্রির কমিশন এজেন্ট ও কুমারপাড়াস্থ বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কেন্দ্রিক আগস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তীতে চলেছে নানামূখী তৎপরতা। একাধিক স্থানীয় নেতার হাত ধরে পরিচালিত হয়েছে প্রায় বছর দেড়েক। একসময়ের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বছরের পর বছর ধরে একক নিয়ন্ত্রণে থাকা ডাবলু সরকারের রাহু গ্রাস থেকে বিআরটিসি মুক্ত হয় আওয়ামী ( কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের মধ্যদিয়ে। কাগজ কলমের হিসেবানুযায়ী চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছিলো পূর্ববর্তী এজেন্টের মেয়াদকাল। পতিত সরকারের রাজনৈতিক দলের মহানগর সেক্রেটারির ডাবলুর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে চলাচলা করতো ছয়টি বাস (চুক্তিভিত্তিক লীজ আকারে নেয়া)। আর অন্যান্য বাসগুলোর টিকেট বিক্রির কমিশন এজেন্ট হিসেবে শহরের প্রতিটি কাউন্টার ছিল তারই দখলে। ডাবলু সরকারের পলায়নের পর থেকে সেই ছয়টি বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল কারা এবং বাসগুলো এখন কার নিয়ন্ত্রণে আছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের। এবার নতুন করে প্রশ্ন উঠছে পূর্বের ন্যায় বাসের ট্রিপ প্রতি অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে।

জুন ২০২৬ এর মধ্যভাগে এসে পূর্বের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার পর পরই রাজশাহী থেকে চলাচলকারি বিভিন্ন রুটের বিআরটিসি বাসগুলোর টিকিট বুকিং প্রতিনিধি হিসেবে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেয়া হয় মইনুল ইসলামকে। গত ১৮-০৬-২০২৬ ইং তারিখে মইনুল ইসলাম পান সেই দায়িত্ব। দুইমাস পর গত ২০-৮-২০২৬ ইং তারিখে পরবর্তী তিন বছরের জন্য স্থায়ীভাবে কমিশন এজেন্ট হিসেবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় মইনুল ইসলাম ও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে। চারদিনের মাথায় গত ২৪-৮-২০২৬ ইং তারিখে বিআরটিসি’র সাথে টিকেট বিক্রির কমিশন এজেন্ট হিসেবে নির্দিষ্ট মেয়াদে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় আল আমিন সরকার টিটুর সাথে। টিটুকে দেয়া হয় নগরীর ছয়টি স্থানে টিকেট বিক্রির কাউন্টার পরিচালনার জন্য। সেগুলো হলো, তালাইমারী, ভদ্রার মোড়, রাজিব চত্তর, কুমারপাড়া, রাজশাহী কোর্ট, নগর ভবন। অন্যদিকে, নগরীর রেলগেট, গোরহাঙ্গা গোরস্থান, শিরোইল বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে মার্কেট ও বন্ধগেট কাউন্টারগুলো থাকে মইনুলের নামে। একই শহের দুজন এজেন্ট হবার কারণে কাউন্টার প্লেস ও স্বল্প দূরত্বে একাধিক পয়েন্ট নিয়ে উভয়ের মধ্যে রশি টানাটানি আর শীতল যুদ্ধ শুরু হয় প্রথম থেকেই। এখনো সেটি সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।

নতুন করে স্থায়ী সমঝোতার পর কুমারপাড়াস্থ বিআরটিসি ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি গত ৪ জুন’২০২৬ ইং তারিখে স্থানান্তরিত হয় রাজশাহী উন্নয়ন কতৃক। নতুন এই বাস ডিপোতেও পূর্বের ন্যায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একজন কমিশন এজেন্ট বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে পূর্বের ন্যায় একই পন্থায় প্রতিটি বাস থেকে ট্রিপ প্রতি অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে দুইশ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তারা আরো জানান, প্রথমদিকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে থেকে নেয়া হতো এই অর্থ। কমিশন এজেন্টের সাথে জড়িত একপক্ষের শক্ত প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে কাউন্টারের সামনে থেকে এভাবে অর্থ আদায়ের বিষয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও ঘটেনি তার বিলুপ্তি। কুমারপাড়া থেকে সিপটিং হওয়া নওদাপাড়াস্থ ডিপো থেকে একইপন্থায় আদায় চলছে এই অর্থ আদায় বলে জানান অভিযোগকারীরা। এই নগদ উত্তোলনের বিপরীতে দেয়া হতোনা কোন স্লিপ বা মেমো। জানতে চাইলে ডিপো ম্যানেজার রাজকুমার বলেন, আগে রেলগেট এলাকায় তোলা হতো। ডিপোর ডিজিএম ও ইউনিট প্রধানের নিষেধ করার পর সেটা বন্ধ হয়। ডিপো থেকে পূর্বের ন্যায় আর টাকা তোলা হয়না বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাক টার্মিনালে বাস রাখার কারণে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিসি) প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করবে নির্দিষ্ট পরিমাণ একটি অর্থ। আরডিএ কার্যালয়ে কর্মরতরা জানান, ট্রাক টার্মিনালে বাস রাখার কারনে প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে বিআরটিসি নির্দিষ্ট পরিমাণ একটি অর্থ পরিশোধ করার কথা। অন্যদিকে, বিভিন্ন রুটে বাস ছাড়ার সময় বাসের ট্রিপ প্রতি ১৫/২০ টাকা হারে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিয়মানুযায়ী পাবার কথা থাকলেও সেটির পরিবর্তে সর্বসাকুল্যে (ভ্যাট-ট্যাক্স সহ) বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ আরডিএ-কে প্রতিমাসে পরিশোধ করবে পঞ্চাশ হাজার টাকা বলে জানান, আরডিএ’র চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুই।

ট্রিপ প্রতি বাস থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে (হোয়াটস অ্যাপ নাম্বারে কল) রাজশাহী বাস ডিপোর ডিজিএম (পিএন্ডএস) ও ইউনিট প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বাবু বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি বিদেশে আছি। দেশে এসে সার্বিক বিষয়গুলো দেখবো।

  • সর্বশেষ