সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যে আজ রোববার বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। গত বৃহস্পতিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেন। সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড়।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে চলছে তিন দিনের পর্যটন মেলা। লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চের পাশে আয়োজিত এ মেলায় রয়েছে প্রায় অর্ধশত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের স্টল। প্রতিদিন মঞ্চে ফোক গান, কাওয়ালি, দ্বৈত গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হচ্ছে। পর্যটকরাও মেলায় ঘুরে এসব আয়োজন উপভোগ করছেন।
দিবসটি উপলক্ষে আজ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এতে ট্যুরিস্ট পুলিশের মোটরসাইকেল বহর, সৈকতের ঘোড়ার বহর ও বিচ বাইকসহ কক্সবাজারের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পর্যটকরাও এতে অংশ নেবেন।
হবিগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক ফরিয়াদ হোসেন বলেন, ‘পর্যটন দিবসের আয়োজন দেখতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। এখানে বেশ ভালো সময় কাটাচ্ছি।’
কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে আসা দম্পতি আকতার হোসেন ও ফাহমিদা খানম বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে এসেছি। পর্যটন দিবসের দিনটিও কক্সবাজারে থাকতে চাই।’
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ব পর্যটন দিবসের আয়োজন দেখতে এসেছি। গত দুই দিন পর্যটন মেলায় গান উপভোগ করেছি। তবে যে হোটেলে উঠেছি সেখানে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।’
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, ২০২৩ সালে সর্বশেষ জমকালোভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করা হয়েছিল। গত দুই বছর বড় কোনো আয়োজন ছিল না। এবার পুরোনো আমেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটন দিবস উপলক্ষে সমিতির তালিকাভুক্ত হোটেলগুলোতে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সেবাও বাড়ানো হয়েছে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াক) সাবেক সভাপতি এস এম কিবরিয়া খান বলেন, পর্যটকদের জন্য আগামী এক সপ্তাহ খাবার ও যানবাহনে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। যানবাহনে ২০ শতাংশ এবং খাবারে ৩০ শতাংশ ছাড় থাকবে।
হোটেল দ্য কক্স টুডের এজিএম আবু তালেব শাহ বলেন, সাপ্তাহিক ছুটি ও বিশ্ব পর্যটন দিবসকে কেন্দ্র করে তাদের হোটেলের কক্ষগুলো আগেই বুকিং হয়ে গেছে। অতিথিদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।