কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতানুল গণি চৌধুরী প্রকাশ লেদু মিয়ার প্রেম বাজারে আটটি দোকান, একটি বোডিং ও একটি অফিস কক্ষ দখল এবং সাড়ে ৬ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এরই প্রেক্ষিতে শনিবার বিকালে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে সে দৃশ্য অবলোকন করেন।
মার্কেট ও বোডিং দখল করে ঘেরা দেওয়ার ঘটনায় মিজানুর রহমান ওরফে কাজল নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থানায় এজাহার দিয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়। অভিযোগ কারি ওই সম্পত্তির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল গণি চৌধুরীর কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত।
উল্লেখ্য সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সুলতান উল কবির চৌধুররি ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল গণি চৌধুরী।
এজাহারে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একই এলাকার মরহুম বশির আহমদ গংয়ের পক্ষে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রেম বাজারে গিয়ে আটটি দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দোকানগুলোর মালামাল নিজেদের হেফাজতে নেওয়া এবং টিনের বেড়া দিয়ে দোকানগুলো ঘিরে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, দ্বিতীয় তলায় থাকা লিজা বোডিংয়ের ক্যাশ বাক্স থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অফিস কক্ষ থেকে ফিশারির মাছ বিক্রির ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বোডিংয়ে থাকা লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা সম্পত্তির মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দেওয়ায় বাদী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যাসহ গুরুতর জখমের হুমকি দেওয়া হয়। দোকানগুলোতে থাকা প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামালও আসামিদের হেফাজতে রয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন বলেন, সোলতানুল গণি চৌধুরী যে ওয়ারিশ থেকে জায়গা নিয়েছে তার পূর্বে ১৯৮০ সালে কবলামূলে আমার বাবা মরহুম বশির আহমদ ক্রয় করেছিল। তারা আমাদের স্থাপনা এতোদিন জোরপূর্বক দখল করেছিল। স্থানীয় বাজার কমিটি ও থানায় আপোস মিমাংসার জন্য বললে তারা বসেননি।
পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সাদ্দাম হোসেন মানিক বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শতাধিক নারী-পুরুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রেম বাজারে সুলতানুল গণি চৌধুরী লেদু মিয়ার নির্মিত মার্কেট ও লিজা বোডিং দখলের চেষ্টা করছে–এমন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশের সহায়তা চেয়ে ৯৯৯-এ কল করেন। সাড়া না পেয়ে বাঁশখালী থানার ওসিকে জানালে এসআই কামরুলের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে দখলকারীরা পুলিশের কথাও মানেনি বলে দাবি করেন তিনি।
সাদ্দাম হোসেন আরও বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা প্রশাসনকে জানানোয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সম্পত্তি দখলের পক্ষে দখলকারীদের কোনো আদালতের রায় বা প্রশাসনিক অনুমতি নেই।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মো. রবিউল হক বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে দু'গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বিষয়টি আমার উধ্বর্তন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও অবগত করেছি। আজকে সন্ধ্যায় উভয়পক্ষকে থানায় আসার জন্যও বলা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।