শিরোনাম
◈ জাতিসংঘের প্রশাসনিক দায়িত্বে জাইমা রহমান, লিগ্যাল অফিসারের আসল কাজ কী? (ভিডিও) ◈ নিউইয়র্কে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে প্রবাসীদের কটূক্তি ও হেনস্তার অভিযোগ (ভিডিও) ◈ ককটেল বিস্ফোরণ: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি ◈ সরকারি চাকরিতে মামলা চললে পদোন্নতি নয়, দণ্ড শেষেও দুই বছর অপেক্ষা ◈ ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৬৫ ◈ জাতিসংঘ অধিবেশনে মোদি অনুপস্থিত কেন, ভারতের কূটনীতিতে কী বার্তা? ◈ নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট ◈ নভেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে এইচএসসির ফল প্রকাশ  ◈ মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু, দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ◈ দেশের সব ইউনিয়নের হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ সরকারের

প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৭ রাত
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিয়ের আশ্বাসে নারীকে দুবাই নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, শিশুর স্বীকৃতির দাবি

নোয়াখালী প্রতিনিধি: বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে দুবাই নিয়ে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের প্রবাসী মো. বাহারের বিরুদ্ধে। ওই নারীর দাবি, বর্তমানে তার সাত মাস বয়সী সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লেও অভিযুক্ত বাহার মা ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না এবং চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করছেন না।

অভিযুক্ত মো. বাহার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বাহার। একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে দুবাই নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে না করে দিনের পর দিন তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

মুক্তার দাবি, একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে দেশে গুরত্বর অসুস্থ এক বন্ধুকে দেখতে তাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন বাহার।  দেশে ফেরার পর তাকে তার বাগেরহাটের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন তিনি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ব্লক করে দেন বলেও অভিযোগ করেন মুক্তা।

advertisement

চলতি বছরের মার্চ মাসে জন্ম নেয় মুক্তার গর্ভের সন্তান। বর্তমানে তার সন্তানের বয়স সাত মাস। সন্তান অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানান মুক্তা। তার অভিযোগ, বাহারের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি মা ও সন্তানের কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। এরআগে ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী বাহার ওষুধ খাইয়ে তার গর্বের আরেকটি সন্তান নষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগ করেন মুক্তা।

মুক্তা আরও দাবি করেন, তিনি সুবর্ণচরে বাহারের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার জন্য ১৪ লাখ টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়েছে বলে জানতে পারেন। এ কারণে নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি বর্তমানে বাগেরহাটে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান।

ভুক্তভোগী বলেন, আমি আমার সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। সত্য প্রকাশ পাক। আমার সন্তান যেন ভবিষ্যতে বাবার পরিচয় নিয়ে কোনো সংকটে না পড়ে, সেটিই আমার দাবি। আমি ন্যায়বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।

মুক্তার অভিযোগ, বাহার তাকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সন্তানের দায়িত্ব নিতে তিনি রাজি হননি। এ বিষয়ে কোনো লিখিত সমঝোতা বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বাহারের প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার না করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তার স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের জন্য ওই নারীই দায়ী এবং এসব অভিযোগের কারণে তার সংসারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বাহারের প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানান। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই বলে দাবি করা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী বাহারের সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তা বর্তমানে সন্তানের ভবিষ্যৎ, পিতৃপরিচয় ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ