শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮ রাত
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চান্দিনায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করলেন অধীনস্থ কর্মচারী

কাজী রাশেদ, চান্দিনা (কুমিল্লা): কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) মো. মোস্তাক আহমেদ তালুকদার লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে তারই অধীনস্থ কর্মচারী ও পৌরসভার বাজার পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় ওই কর্মকর্তাকে শারীরিক নির্যাতনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পিএনও মোস্তাক আহমেদ তালুকদার জানান, গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শেষে পৌর ভবনের দ্বিতীয় তলায় নামাজ ও খাবার বিরতিতে ছিলেন তিনি। এ সময় বাজার পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিন হঠাৎ তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন এবং স্টোর রুমের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে কৈফিয়ত তলব করেন। তখন পিএনও তাকে বলেন, আপনার তো স্টোরের দায়িত্ব নয়, আপনি কেন কৈফিয়ত তলব করছেন? এতে বাজার পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেন এবং শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন পিএনও।

তিনি আরও জানান, এ সময় আমি জীবন বাঁচাতে চিৎকার দিয়ে নিচতলায় প্রকৌশলীর কক্ষে আশ্রয় নিই। গিয়াস উদ্দিন সেখানে গিয়েও আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও নানা কথা বলতে থাকেন।পরে বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আশরাফুল হককে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌর প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হাসান বলেন, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, নিজেদের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। এদিকে একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার সাথে অধীনস্থ তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

অভিযুক্ত বাজার পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তার দাবি, আমাদের পিএনও মহোদয় বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কেবল স্টোর সংক্রান্ত একটি বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উল্টো আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং এটি আমার কাজ নয় বলে কর্কশ ভাষায় কথা বলেন। এ নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে সামান্য তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে স্যার চিৎকার করতে করতে দোতলা থেকে নিচে নেমে আসেন। স্যার কেন আমার সাথে এমন আচরণ করলেন, তা ভেবে আমি নিজেই হতবাক হয়ে গেছি।

এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. আশরাফুল হক জানান, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এটি দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করব।

  • সর্বশেষ