হোসাইন মোহাম্মদ দিদার: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দিনভর পুলিশের অভিযানে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রায় ৩২ কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আটক কিশোরদের মধ্যে বেশিরভাগের বিরুদ্ধে পুলিশের পিসিপিআর (পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড) খাতায় কোনো অভিযোগ বা পূর্বের অপরাধের তথ্য নেই বলে দাবি করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেল থেকে আটক কিশোরদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন দাউদকান্দি মডেল থানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানার একটি কক্ষে আটক রাখা কিশোরদের কয়েকজন একপর্যায়ে ওই কক্ষের চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বের হয়ে যায়। পরে আটক কিশোরদের একটি অংশ থানার সামনে জড়ো হয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে।
অভিযানিক নেতৃত্ব দেওয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মধুসূদন দত্তের ভাষ্যমতে ধৃত সকলেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাই ওসির নির্দেশে তাদের আটক করে থানায় আনা হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম। তিনি হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে কিশোরদের আটক করা হয়। তবে আটক করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, আইনগত ভিত্তি এবং পরবর্তী ব্যবস্থা কী নেওয়া হয়েছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে বুধবারের কিশোর আটকের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত পুনরায় কিশোদের থানায় এনে মুচলেকা দিয়ে ৩২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কতজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং থানার কক্ষের চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভাঙার ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ হয়েছে কি না—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এবিষয়ে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান ছিল। এদের কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভাংচুরের বিষয়টি সত্য নয়।