ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি শান্তনা খাতুনকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শান্তনা খাতুন পবহাটি গ্রামের আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের কন্যাপুত্র সাইমা আক্তার সাবা নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির সূত্র ধরে পুলিশ তদন্তে নামে এবং ওই দিন রাতেই প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের ভেতর থেকে ঝুলন্ত/অচেতন অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে আটক করে। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার ২৭ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে বিচারক আজ এই রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, একটি মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আসামী পক্ষের আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।