ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে রেলওয়ের কর্মচারীর মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন। শিক্ষার্থীরা রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। পরে স্টেশনে গিয়ে সিসি ক্যামেরা, হেল্প ডেস্ক ও জানালার কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাবির ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে হাসপাতালে আইয়ুব আলীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে যান রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।
উপাচার্য বলেন, চিকিৎসকরা আইয়ুবকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ও পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপককে জানানো হয়েছে। এর আগে দুই-তিনবার রাবি শিক্ষার্থীদের রেলওয়ের কর্মচারীরা মারধর করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এক ঘণ্টার সময়সীমা দেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, রেলওয়ের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও টিটিইদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বারবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই তারা অবস্থান নিয়েছেন। দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যেই আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহী রেলওয়ের চীফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্টেশনে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন— মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন।
তবে এরপরও বিক্ষোভ থামেনি। প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী স্টেশনের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সিসিটিভি, হেল্প ডেস্ক ও জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। পরে জিআরপি থানা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অফিসেও ভাংচুর চালায় তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় রাবির প্রক্টরিয়াল টিম ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পুলিশের উদ্দেশে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
পরে রাবির প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
তিনি বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে আসার পর শিক্ষার্থীরা তাদের কথা শুনেছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। নতুন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।