শিরোনাম
◈ ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি পরিবহনমালিকদের ◈ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত ◈ ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু ও ১,৬৫৫ রোগী হাসপাতালে ◈ ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ জ্বালানি তেলের দাম কেন বাড়ল? প্রতিমন্ত্রী জানালেন ৩ কারণ ◈ উজবেকিস্তানের পর এবার ইন্দোনেশিয়ার জালে ১৭ গোল, দুই ম্যাচে ভারতের ৩৬! ◈ মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা: এমপি গাজী নজরুল ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে ◈ জামায়াতের বহিষ্কারের চিঠি পেলেও নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবে না ইসি ◈ অপ্রতিম হত্যা: আইফোনের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধের তথ্য, হত্যার কারণ নিয়ে মিলছে নতুন সূত্র ◈ জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘বড় বরাদ্দ’

প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৮ বিকাল
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৭ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, ১৯ দিনেই ১২ মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

অনুজ দেব বাপু, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিনই নতুন ডেঙ্গু রোগী বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৬২ জনে। আগের ৮ মাসে ৫ জনের মৃত্যু হলেও শুধুমাত্র চলতি মাসেই সরকারি হিসাবে মারা গেছেন ১২ জন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নগরের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে অভি বড়–য়া (১৪)  চমেক হাসপাতালে মুরাদ (১০) এবং মিনু আরা বেগম (৬৯) নগরের পার্ক ভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অভি বড়–য়ার মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে যুক্ত হলে চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৮ জনে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইমপেরিয়াল হাসপাতালে মারা যায় অনুশ্রী দাশ নামের সাত বছরের একটি মেয়ে।

এদিকে বিভিন্ন হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ। এক বেডে দু’তিন জন থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। চিকিৎসা পেতে বেগ পেতে হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের। এছাড়া পর্যাপ্ত আইসিউ বেড না থাকায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন রোগীর স্বজনরা। সেপ্টেম্বরের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আগামী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

advertisement

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ডেঙ্গু প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় এর আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে ১১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬, বিআইটিআইডিতে ১৭, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১১, চমেক হাসপাতালে ২, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৪ এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২০ জন ভর্তি হয়েছেন। নতুন একজনের মৃত্যু হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে। এ নিয়ে চলতি বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। চলতি বছর চট্টগ্রামে মোট ৩ হাজার ৪৬২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২,৯৩০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৫৩২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে আগের বছরগুলোতে জুন-জুলাই থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যেত, যেটা তুলনামূলকভাবে কমে আসতো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে। এবার জুন-জুলাইয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ছিল কম, কিন্ত হঠাৎ করে বাড়তে থাকে আগস্ট থেকে। চলতি সেপ্টেম্বরে হঠাৎ করে বেড়ে গিয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে চট্টগ্রামে দৈনিক গড়ে ৭০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সেপ্টেম্বরের ধারাবাহিকতা অক্টোবরেও চলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নগরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বেশ কটি উপজেলায়ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। নগরসংলগ্ন সীতাকুন্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় অন্যান্য উপজেলার তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। এরমধ্যে এ দুই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাওয়া গেছে সীতাকুন্ডে। মোট আক্রান্তের চারভাগের একভাগ এ উপজেলার। এরপরের অবস্থানে রয়েছে কর্ণফুলী।

advertisement

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান আমাদেরসময়ডটকমকে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এবং সচেতন থাকলে আক্রান্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে লোকজনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। নগরের হটস্পটগুলোতে মাইকিং করার পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে লিফলেট। লিফলেটগুলো হটস্পট ছাড়াও হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

advertisement

এছাড়াও গত শুক্রবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জোনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেশি, সেসব এলাকাকে গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চট্টগ্রামে ২০২৫ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৪,৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন, ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ৪,৩২৩ এবং মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হন ১৪,০৮৭, মারা যান ১০৭ জন এবং ২০২২ সালে আক্রান্ত হন ৫,৪৪৫ এবং মারা যান ৪১ জন।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। আগামী অক্টোবর জুড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সবাইকে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।