এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনঘেরা বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সাতশৈয়া গ্রামে রেণুপোনা ব্যবসায়ী মাহাবুব মল্লিকের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সংঘটিত এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরপর দুটি বোমা নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় গৃহকর্তা মাহাবুব মল্লিক (৩৯), তাঁর ক্যান্সার আক্রান্ত অসুস্থ মা রিজিয়া বেগম (৭০) এবং বোন রেহেনা মল্লিক (৪৩) আহত হয়েছেন। তাঁরা ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভোররাতে লোহার গেটের তালা ভেঙে প্রবেশ
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে ৫-৬ জনের একটি দল মাহাতাব মল্লিকের ছেলে মাহাবুব মল্লিকের বাড়ির লোহার গেটের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।
ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তাঁদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে লুটপাট চালানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, এ সময় মাহাবুব মল্লিকের স্ত্রীর গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইনের অংশ বিশেষ ছিঁড়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর বোনের একটি মুঠোফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।
ডাকচিৎকারে ছুটে আসে এলাকাবাসী
পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
তাঁদের ভাষ্য, এলাকাবাসী এগিয়ে আসার সময় দুর্বৃত্তরা রাস্তায় এবং একটি বাড়ির দিকে পরপর দুটি বোমা নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায় তারা।
বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহত তিনজন হাসপাতালে
ডাকাতদের হামলায় মাহাবুব মল্লিক, তাঁর অসুস্থ মা রিজিয়া বেগম এবং বোন রেহেনা মল্লিক আহত হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রিজিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। হামলার পর আহত তিনজনকে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়ে ফকিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) রাশেদুল ইসলাম রানা, ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরাসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা: পুলিশ
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে ভোররাতে বসতবাড়িতে ঢুকে ডাকাতির অভিযোগ এবং পরে বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় সাতশৈয়া গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
তবে ডাকাতির অভিযোগ, লুট হওয়া মালামালের পরিমাণ এবং বোমা নিক্ষেপের ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।