শিরোনাম
◈ খে‌লোয়াড়‌দের আ‌র্থিক ক্ষ‌তি সামলা‌তে ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ালো বিসিবি ◈ নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল ◈ সংসদে অনুপস্থিত এমপি, বাতিল হলো লিখিত প্রশ্ন: স্পিকারের ‘জি এম তো নাই’ মন্তব্যে হাসির রোল ◈ নতুন দায়িত্ব পেলেন এ্যানি ◈ ইংরেজি জানেন, বুঝতেও পারেন—কথা বলতে গেলেই সমস্যা কেন হয়? ◈ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইএসডিবির সঙ্গে চুক্তি সই ◈ জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে গ্যাস, কাল আসছে আরও এক এলএনজি কার্গো ◈ জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি নজরুল ইসলামকে নিয়ে স্পিকার বললেন, ‘জিএম তো নাই’ ◈ বয়স জালিয়াতির কার‌ণে এক সঙ্গে ৫০০ জন কু‌স্তি‌গির বহিষ্কার ◈ ‘যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে রেমিট্যান্সের শীর্ষে ফের সৌদি আরব’

প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:২৯ বিকাল
আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:২৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে চুরির অপবাদে শিশুকে মধ্যযুগীয় নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি

হারুন-অর-রশীদ, ​ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালীতে চুরির অপবাদ দিয়ে তাওহিদ শেখ (১৪) নামে এক কিশোরকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কুরানিয়ার চর এলাকার ‘মায়ের দোয়া মুড়ির কারখানা’র দ্বিতীয় তলার ছাদে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় মুড়ি কারখানার মালিক সাবেক সেনা সদস্য ইশারত মোল্যা (৫৫) ও তাঁর ছেলে মুন্না মোল্যা (২২) টানা তিন ঘণ্টা ধরে শিশুটির ওপর এ মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালান।

​আহত তাওহিদ নওপাড়া গ্রামের রুবেল শেখের বড় ছেলে এবং স্থানীয় বাজারের একটি ফার্নিচারের দোকানের কর্মচারী।

​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাওহিদ জানায়, ওই দিন রাত ৯টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ডেকে মুড়ি কারখানার ছাদে নিয়ে যান মুন্না মোল্যা। সেখানে ইশারত মোল্যা এসে তার হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে ফেলেন। লোহার রড চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাতে স্বীকারোক্তি আদায় করতে লোহার পাইপ দিয়ে তাকে টানা পেটানো হয়। চিৎকার বন্ধ করতে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত পেটানোর পর তাকে ছাদেই ফেলে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন।

​বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, শরীরের আঘাতের যন্ত্রণায় অনবরত কোঁকাচ্ছে তাওহিদ। তাঁর কোমরের নিচ থেকে পুরো নিতম্ব কালচে হয়ে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। ব্যথার কারণে সোজা হয়ে বসতে না পেরে একপাশে কাত হয়ে শুয়ে দিন পার করছে সে।

​ঘটনার বিচার দাবি করে তাওহিদের বাবা রুবেল শেখ বলেন, "ঘটনা জানতে গেলে উল্টো আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গ্রামের মানুষ টাকার দাপটের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। আমি আমার ছেলের ওপর হওয়া নির্মমতার বিচার চাই।"

​মারধরের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত ইশারত মোল্যা বলেন, "ছেলেটি এলাকায় চুরি করত। ওই দিন তাকে ছাদে হাতে-নাতে ধরে আমার ছেলে ও ভাতিজারা চড়-থাপ্পড় দিয়েছে। পুলিশে দেওয়া উচিত ছিল, তা না করে ভুল করেছি।"

​এ ব্যাপারে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ