শিরোনাম
◈ খার্গ দ্বীপ কি ‘ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে’, যা জানাল রয়টার্স ◈ মালয়েশিয়াগামী ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে পাঠানোর নির্দেশ ◈ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবন ◈ শিশু আছিয়া হত্যা: হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল ◈ প্রোটোকল ভাঙা সফর: টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিমন্ত্রী হাবিবের নির্ভার উপস্থিতি, ভিন্ন সংস্কৃতির ইঙ্গিত ◈ বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আজ ◈ নতুন পে-স্কেল: ৩০% দিয়ে শুরু, চার ধাপে বাড়বে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ◈ দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন, ভরিতে কমলো কত ◈ আইফোন কিনতে লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া সেই শিশু উদ্ধার

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪২ দুপুর
আপডেট : ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৪০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার খুলছে সুন্দরবন

টানা তিন মাসের আইনি নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়া হচ্ছে সুন্দরবন। জানা গেছে, প্রজনন মৌসুমে মাছ ও বন্যপ্রাণীর নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশাধিকার বন্ধ রেখেছিল বন বিভাগ। 

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরের পর মহেশ্বরীপুর, কয়রা, উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশীসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরাও নেমেছেন শেষ মুহূর্তের তড়িঘড়িতে। ভাঙা নৌকা মেরামত, নতুন কাঠ পাল্টানো, জাল সেলাই আর দড়ি-দড়া বাঁধার কাজে দিনরাত ব্যস্ত তারা।

কয়রার উত্তর বেদকাশী গ্রামের প্রবীণ জেলে মোজাফফর আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় ৪২ বছর ধরে বনে জল-জঙ্গল করে কোনো রকমে বেঁচে আছি। বন বন্ধ হলে আমাদের উপার্জনের আর কোনো পথ থাকে না। তিন মাস চাল-ডালের টান ছিল, পর্যাপ্ত কোনো সহায়তা পাইনি। তবে ১ সেপ্টেম্বর বন খুললে আবার নামতেই হবে।

কয়রার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, উপকূলের বনজীবীদের এই যাত্রাকে কেবল সাধারণ কর্মসংস্থান বলা চলে না; এটি একপ্রকার জীবনের বাজি ধরা। একদিকে বনে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে পদে পদে মৃত্যুঝুঁকি। সুন্দরবনের নদী-খালে পা ফেলতেই ওত পেতে থাকে হিংস্র বাঘ। একটু অসাবধান হলেই কিংবা ম্যানগ্রোভের গভীরে কাঠ ও গোলপাতা কাটতে গেলে কার কপালে বাঘের থাবা জোটে—সেই আতঙ্কে প্রতিটি মুহূর্ত কাটান বাওয়ালিরা।

কিন্তু প্রকৃতির এই হিংস্রতার চেয়েও এখন বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সুন্দরবনে পুনরায় ‘বনদস্যু’ বা জলদস্যুদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে জেলেদের পারমিট দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তারা যাতে নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পারেন, তার জন্য সর্বাত্মক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বনযাত্রার এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে বিশাল ঋণের বোঝা। স্থানীয় জেলে ও বনজীবীরা জানান, চাল-ডাল কেনা, ট্রলার বা নৌকার তেল, নতুন জাল ও পারমিটের আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে বনে নামার আগেই একটি নৌকায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আগাম খরচ হয়ে যায়। আর এই টাকার বেশির ভাগই আসে চড়া সুদের মহাজনি ঋণ থেকে।

  • সর্বশেষ