গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে এবং তরুণ-যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এক জমজমাট নৌকাবাইচ হয়ে গেল। গত শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার নন্দন বিলে এই আয়োজন করে ফুলকী দক্ষিণপাড়া যুবসমাজ। পাঁচটি গ্রুপে ২০টি কোষা নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, আবহমান গ্রাম বাংলার লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ নৌকাবাইচ। এক সময় নদনদীতে নৌকাবাইচ উৎসব হতো। বর্ষা মৌসুমে মাঝিমাল্লার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর সারি গানের তালে এগিয়ে যেত দৃষ্টিনন্দন সব কোষা নৌকা। নৌকাবাইচ দেখতে ভিড় করত দূরদূরান্তের দর্শনার্থীরা। কালের বিবর্তনে নগরায়ণের ফলে গ্রামীণ জীবনধারা অনেক বদলে গেছে। এক সময়ের আমুদে মানুষও বাইচের নৌকা তৈরি থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে। ফলে বাইচের কোষা নৌকাও খুব একটা দেখা যায় না। এই যখন অবস্থা, তখন টাঙ্গাইলের বাসাইলে হয়ে গেল এক জমজমাট নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ দেখতে গত শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে বিলের দুই পাড়ে উপস্থিত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে হাজারো মানুষ সমবেত হয়। দর্শনার্থীরা আনন্দে মেতে ওঠেন নৌকাবাইচ দেখতে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় বিলের দুই পাড়। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ছোট ছোট নৌকা নিয়ে এই বাইচের আয়োজন করা হয়। ফুলকী ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০টি কোষা নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তিকে অতিথি করা হয়নি। মূলত আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ও মানুষকে বিনোদন দিতে যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় কোনো বড় নৌকা ছিল না। ১২ থেকে ১৫ হাত নৌকাগুলো বাইচে অংশ নেয়। চ্যাম্পিয়ন নৌকাকে ২৪ ইঞ্চি স্মার্ট টেলিভিশন পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: সমকাল